অর্থনীতি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি প্রশ্ন
- ক)(1)
নিট জাতীয় আয় কাকে বলে?
- খ)(2)
সকল দেশের জিডিপি বৃদ্ধির জন্য মূলধন আবশ্যক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছকে ১ নং পদ্ধতিতে কীভাবে জাতীয় আয় নির্ণয় করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের মতো দেশে ছকের ২নং পদ্ধতি কতটা,কার্যকর বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন অবচয় বাদ দিলে যা পাওয়া যায়, তাকে নিট জাতীয় আয় (Net National Income) বলে।
- খ)
মূলধন বলতে কলকারখানা, যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও অন্যান্য উৎপাদনশীল সম্পদ বোঝায়। মূলধন বাড়লে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে এবং শ্রমিকের উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় এবং নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বাড়ে। তাই সব দেশের জিডিপি বৃদ্ধির জন্য মূলধন আবশ্যক।
- গ)
ছকের ১নং পদ্ধতি হলো উৎপাদন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে এক বছরে দেশের সব খাতে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার মূল্য যোগ করে জাতীয় আয় নির্ণয় করা হয়।
ধাপ:
১. অর্থনীতিকে কৃষি, শিল্প ও সেবা এই খাতে ভাগ করা হয়।
২. প্রতিটি খাতে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার পরিমাণকে তাদের বাজারদর দিয়ে গুণ করে মূল্য নির্ণয় করা হয়।
৩. সব খাতের মূল্য যোগ করে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) পাওয়া যায়।
৪. দ্বৈত গণনা এড়াতে মধ্যবর্তী দ্রব্যের মূল্য বাদ দেওয়া হয়।এই GDP এর সাথে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত নিট আয় যোগ করলে জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
- ঘ)
ছকের ২নং পদ্ধতি হলো আয় পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে উৎপাদন উপকরণের মালিকদের প্রাপ্ত খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা যোগ করে জাতীয় আয় নির্ণয় করা হয়। আমার মতে বাংলাদেশের মতো দেশে এ পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর নয়।
১. অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্য: এখানে বহু মানুষ কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত, যাদের আয়ের কোনো লিখিত হিসাব থাকে না।
২. কর ফাঁকি: অনেকে আয় গোপন করেন, ফলে সঠিক আয়ের তথ্য পাওয়া কঠিন।
৩. শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব: অনেক মানুষ নিজের আয়ের হিসাব রাখেন না।
৪. সুবিধা: তবে আয় কর, ব্যাংক ও সংস্থার তথ্য ব্যবহার করে আংশিকভাবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।সুতরাং তথ্যের অভাবে বাংলাদেশে আয় পদ্ধতির ব্যবহার সীমিত কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও