জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ইরা ভাত খেতে পছন্দ করে।

  1. ক)

    স্থূলতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পেরিস্টালসিস বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটির পরিপাক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানবদেহে উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য উপাদানটির বিপাকীয় প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে যখন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তখন তাকে স্থূলতা (Obesity) বলে। (সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে BMI ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা বলা হয়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৌষ্টিকনালির প্রাচীরের বৃত্তাকার ও অনুদৈর্ঘ্য অনৈচ্ছিক পেশির ছন্দোবদ্ধ সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য যে প্রক্রিয়ায় খাদ্যনালি বরাবর মুখবিবর থেকে পায়ু পর্যন্ত অগ্রসর হয়, তাকে পেরিস্টালসিস বলে। এর মাধ্যমে খাদ্য পরিপাক রসের সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত হয় এবং খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নেমে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটি হলো ভাত, যা প্রধানত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। নিম্নে এর পরিপাক ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. মুখবিবরে পরিপাক: চর্বণের মাধ্যমে ভাত চূর্ণবিচূর্ণ হয় এবং লালারসের সাথে মেশে। লালারসের টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম শ্বেতসারকে ভেঙে যথাক্রমে ডেক্সট্রিন ও মল্টোজ এবং সামান্য মল্টোজকে গ্লুকোজে পরিণত করে।
    ২. পাকস্থলীতে পরিপাক: পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রসে কোনো কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের অম্লীয় পরিবেশের কারণে এখানে শর্করার কোনো রাসায়নিক পরিপাক ঘটে না।
    ৩. ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক: ক্ষুদ্রান্ত্রে অগ্ন্যাশয় রস ও অন্ত্রীয় রসের ক্ষারীয় পরিবেশে শর্করা পরিপাক সম্পন্ন হয়। অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ সিদ্ধ শ্বেতসার ও গ্লাইকোজেনকে মল্টোজে পরিণত করে। এরপর আন্ত্রিক রসের মল্টেজ মল্টোজকে গ্লুকোজে, আইসোমল্টেজ আইসোমল্টোজকে গ্লুকোজে এবং সুক্রেজ ও ল্যাকটেজ সুক্রোজ ও ল্যাকটোজকে যথাক্রমে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজ-এ বিশ্লিষ্ট করে শোষণোপযোগী সরল একশর্করায় (প্রধানত গ্লুকোজে) পরিণত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য উপাদানটি হলো শর্করা (কার্বোহাইড্রেট), যা পরিপাকের পর প্রধানত গ্লুকোজ হিসেবে শোষিত হয়। মানবদেহে শর্করা বিপাক মূলত দুটি ভাগে ঘটে—অপচিতি ও উপচিতি বিপাক:

    ১. গ্লাইকোলাইসিস: কোষের সাইটোপ্লাজমে গ্লুকোজ বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয় এবং এটি সবাত ও অবাত উভয় শ্বসনের সাধারণ ধাপ, যা ATP তৈরি করে।
    ২. ক্রেবস চক্র ও জারন: পাইরুভিক অ্যাসিড অ্যাসিটাইল কো-এ তৈরি করে মাইটোকন্ড্রিয়ায় ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের মাধ্যমে জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও বিপুল পরিমাণ শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।
    ৩. গ্লাইকোজেনেসিস: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেলে ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয়ে জমা থাকে।
    ৪. গ্লাইকোজেনোলাইসিস: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে মুক্ত হয়।
    ৫. গ্লুকোনিওজেনেসিস: প্রয়োজনে অ-কার্বোহাইড্রেট উৎস (যেমন- অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ইত্যাদি) থেকে গ্লুকোজ সংশ্লেষিত হয়।

    এভাবে মানবদেহে শর্করা বিপাক প্রক্রিয়া শক্তি উৎপাদন ও রক্তের স্বাভাবিক গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন