কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
সুমন তার ৩০ শতকের পুকুর মাছ চাষের উদ্দেশ্যে নতুনভাবে খনন করে প্রস্তুত করেন। তার পুকুরের pH মান ৪-৮। তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে পুকুরে সার, চুন প্রয়োগ করে মাছ চাষের উপযোগী করেন এবং বছর শেষে তিনি লাভবান হন।
- ক)(1)
অ্যালজি কী?
- খ)(2)
সাইলেজ তৈরির সময় গাছ টুকরো ও বায়ুরোধী করা হয় কেন?
- গ)(3)
পুকুরে মাছের আশানুরূপ বৃদ্ধির জন্য পানির ভৌত গুণাগুণ অত্যাবশ্যক- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ মতে সুমনের গৃহীত কার্যাবলী মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অ্যালজি হলো পানিতে জন্মানো ক্ষুদ্র সবুজ উদ্ভিদ, যাকে বাংলায় শৈবাল বা শেওলা বলে।
- খ)
সাইলেজ তৈরির সময় সবুজ ঘাস ছোট টুকরো করা ও বায়ুরোধী করার কারণ নিচে দেওয়া হলো।
১. টুকরো করার কারণ: টুকরো করলে ঘাস ঘন করে চেপে রাখা যায়। ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যায় এবং গাঁজন প্রক্রিয়া সহজ হয়।
২. বায়ুরোধী করার কারণ: বাতাস না থাকলে পচনকারী জীবাণু বাড়ে না এবং ছত্রাক জন্মায় না। ফলে বায়ুনিরপেক্ষ ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড তৈরি করে ঘাস ভালো রাখে। এতে সাইলেজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। - গ)
মাছের বৃদ্ধির জন্য পানির ভৌত গুণাগুণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানির ভৌত গুণাগুণ হলো তাপমাত্রা, স্বচ্ছতা, রং, গভীরতা ও আলো।
১. তাপমাত্রা: পানির তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাছ ভালো খায় ও দ্রুত বাড়ে। তাপমাত্রা খুব কম বা বেশি হলে খাদ্য গ্রহণ ও বৃদ্ধি কমে।
২. স্বচ্ছতা: পানির স্বচ্ছতা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ নির্ধারণ করে। বেশি ঘোলা পানিতে আলো প্রবেশ করে না।
৩. গভীরতা ও আলো: আলো পানিতে প্ল্যাঙ্কটন জন্মাতে সাহায্য করে। পুকুরের গভীরতা বেশি বা কম হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই ভৌত গুণাগুণ অনুকূল রাখা প্রয়োজন। - ঘ)
মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে সুমন নতুন পুকুরে সার ও চুন প্রয়োগ করে মাছ চাষের উপযোগী করেছেন। উদ্দীপকে পুকুরের pH মান কম, অর্থাৎ পানি অম্লীয়। মাছ চাষের জন্য সাধারণত pH ৬.৫-৮.৫ উপযোগী।
১. চুন প্রয়োগ: চুন অম্লীয় পানির pH বাড়িয়ে মাছ চাষের উপযোগী করে। এটি পানির ক্ষতিকর জীবাণু ও পরজীবী কমায়। তাই চুন দেওয়া সঠিক কাজ।
২. সার প্রয়োগ: সার দিলে পুকুরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন জন্মে, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য। এতে সম্পূরক খাদ্যের খরচ কমে।
৩. পরামর্শ অনুসরণ: বিশেষজ্ঞ পরামর্শে সঠিক সময় ও মাত্রায় কাজ করায় ক্ষতি ও অপচয় কমে।সুতরাং, সুমনের গৃহীত কার্যাবলী বিজ্ঞানসম্মত ও সঠিক। তাই তিনি বছর শেষে লাভবান হয়েছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও