পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে প্রধানত দুটো সম্প্রদায় বসবাস। করে। সম্প্রদায় দুটোর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ কয়েকটি শাসনতান্ত্রিক আইন প্রণয়ন করে ব্যর্থ হয়। অবশেষে ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ পার্লামেন্টে এমন একটি আইন পাস করে যেটির মাধ্যমে। প্রদেশগুলোতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় আর প্রদেশগুলো স্বাধীনভাবে কাজকরার ক্ষমতা পায়।
- ক)(1)
মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
- খ)(2)
'লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব'- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইন দ্বারা কোন আইনকে বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আইন দ্বারা প্রদেশে স্বশাসন প্রতিষ্ঠা কতটুকু কার্যকরী। হয়েছিল বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ১৯০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৩৯ সালে উপস্থাপিত দ্বি-জাতি তত্ত্বে দাবি করেন যে, হিন্দু ও মুসলিম দুটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতি—যাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে এই ধারণাকেই ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে ঘোষণা করা হয় যে, ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করতে হবে। তাই বলা হয় লাহোর প্রস্তাবের মূল ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইন দ্বারা ব্রিটিশ ভারতের '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'কে বোঝানো হয়েছে।
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের ত্রুটি এবং ভারতীয়দের অব্যাহত অসন্তোষ দূর করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয় এবং প্রদেশগুলোতে 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' (Provincial Autonomy) প্রবর্তন করা হয়। এতে প্রদেশের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার হাতে শাসনভার অর্পণ করা হয় এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক বিষয়গুলোর মধ্যে স্পষ্ট ক্ষমতা বণ্টন করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারেনি।
তত্ত্বগতভাবে এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোর দ্বৈত শাসন তুলে নিয়ে নির্বাচিত প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে শাসনক্ষমতা দেওয়া হয় এবং প্রদেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়। তবে বাস্তবে এই স্বায়ত্তশাসন ছিল অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ—
১. গভর্নরের বিশেষ ক্ষমতা: প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে ব্যাপক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধিভিত্তিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। গভর্নর চাইলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাতিল বা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করতে পারতেন।
২. অর্থনৈতিক পরাধীনতা: প্রদেশগুলোর ওপর কেন্দ্রের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল, ফলে স্বাধীনভাবে জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।সুতরাং দেখা যায়, বাহ্যিকভাবে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলেও গভর্নরের অপরিসীম ক্ষমতার কারণে প্রাদেশিক স্বশাসন বাস্তবে প্রায় অকার্যকর ও প্রহসনে পরিণত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও