বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    কত সালে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্ট কেন গঠন করা হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি যে আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, উক্ত আন্দোলনের পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর উদ্দীপকের চিত্রটি-ই ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিচ্ছবি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ।

  2. খ)

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার জন্য যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। মুসলিম লীগ ছিল পুরোনো ও বড় দল এবং প্রাদেশিক সরকার তারাই চালাত। নতুন গঠিত দলগুলো আলাদাভাবে নির্বাচন করলে মুসলিম লীগকে হারানো কঠিন ছিল। তাই ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর মুসলিম লীগবিরোধী পাঁচটি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

    পটভূমি:
    ১. ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। দুই অংশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে কোনো মিল ছিল না। শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে।
    ২. ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দাবি মুসলিম লীগ সদস্যরা প্রত্যাখ্যান করে।
    ৩. ১৯৪৮ সালের মার্চে জিন্নাহ ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'। ছাত্ররা প্রতিবাদ জানায়।
    ৪. ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন একই কথা বললে আন্দোলন সর্বাত্মক রূপ নেয়, যার ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারি ঘটনা ঘটে।

  4. ঘ)

    না, আমি মনে করি শুধু এই চিত্রটি (শহিদ মিনার) ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিচ্ছবি নয়। এটি ত্যাগের স্মারক হলেও চূড়ান্ত বিজয় আরও ব্যাপক।

    ১. ত্যাগের প্রতীক: ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে বরকত, রফিক, জব্বার, সালাম ও শফিউর শহিদ হন। এই আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতেই ছাত্ররা ২৩শে ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার নির্মাণ করেন। অর্থাৎ এটি মূলত ত্যাগ ও স্মরণের প্রতীক।
    ২. রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি: প্রবল আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটাই ছিল আন্দোলনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক বিজয়।
    ৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে, যা এ আন্দোলনের বিশ্বব্যাপী বিজয়।
    ৪. দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম নেয়।

    সুতরাং, শহিদ মিনার বিজয়ের প্রেরণা ও প্রতীক হলেও এটিই একমাত্র চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিচ্ছবি নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন