হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সাধন বাবু' ছিলেন একমাত্র আদরের সন্তান। তার ছিল অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি। তিনি বত্রিশ বছরের জীবনে অসাধারণ কিছু কাজ করে জগতের বুকে স্মরণীয় হয়ে আছেন। "ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা"- এ সত্যটি তিনি পালন করতেন। "জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই"- এ ছিল তার জীবনের চরম সত্য ও অবদান।
- ক)(1)
অবতার কাকে বলে?
- খ)(2)
'শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণাবতার'- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো
- গ)(3)
'সাধন বাবু শ্রী শঙ্করাচার্যের প্রতিচ্ছবি'- তোমার পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
"জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই"- উক্তিটি শ্রী শঙ্করাচার্যের মোহমুদগর কাব্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যিনি ভগবান বিষ্ণুর বিভিন্ন রূপে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, তাঁকে অবতার বলে।
- খ)
শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বিষ্ণুর পূর্ণাবতার।
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলে। এ অবস্থায় ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ অবতারের মধ্যে থাকে। শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য ছিল বলে তিনি পূর্ণাবতার। আর অপূর্ণ বা আংশিক অবতারদের অংশাবতার বলা হয়, যেমন রাম, পরশুরাম, বুদ্ধ। - গ)
'সাধন বাবু শ্রী শঙ্করাচার্যের প্রতিচ্ছবি'- এ কথাটি সত্য, কারণ উদ্দীপকের সাধন বাবুর জীবনের সাথে শঙ্করাচার্যের জীবনের মিল আছে।
শঙ্করাচার্যের পরিচয়: ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে কেরলের কালাড়ি গ্রামে শঙ্করাচার্য জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শিবগুরু, মা বিশিষ্টা দেবী। তিনি ছিলেন মায়ের একমাত্র অবলম্বন। তাঁর ছিল অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি। মাত্র দুই বছরে বেদ, বেদান্ত, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি আয়ত্ত করেন। তাঁর অদ্বৈতবাদের মূল কথা: 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' তিনি চার প্রান্তে চারটি মঠ স্থাপন করেন এবং বেদান্তভাষ্য, ব্রহ্মসূত্রভাষ্য, মোহমুদগর ইত্যাদি রচনা করেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে কেদারনাথে তিনি দেহত্যাগ করেন।
উদ্দীপকের সাথে মিল: সাধন বাবু একমাত্র আদরের সন্তান, অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি বত্রিশ বছরের জীবনে স্মরণীয় কাজ করে গেছেন এবং 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা' ও 'জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই' এ সত্য পালন করতেন। এসব শঙ্করাচার্যের জীবনের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
'জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই'- এ উক্তিটি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদের মূল কথা। তাঁর রচিত মোহমুদগর কাব্যের আলোকে এ উক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা যায়।
শঙ্করাচার্য বলেন, ব্রহ্মই একমাত্র সত্য, জগৎ মায়া। জীবাত্মা ও পরমাত্মা মূলত একই। অজ্ঞানতার কারণে জীব নিজেকে ব্রহ্ম থেকে আলাদা মনে করে।
১. সংসারের মায়াময়তা: মোহমুদগরে বলা হয়েছে, 'কে তব কান্তা আর কে তব কুমার? অতীব বিচিত্র এই মায়ার সংসার।' অর্থাৎ সংসারের সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী ও মায়া। জগৎ মিথ্যা বলেই জীবকে ব্রহ্মের দিকে ফিরতে হবে।
২. জীবনের অনিত্যতা: 'পদ্মপত্রে বারিবিন্দু যেমন চঞ্চল, জীবন তেমন হয় অতীব চপল।' জীবন যেমন ক্ষণস্থায়ী, তেমনি জাগতিক সুখও ক্ষণস্থায়ী। তাই অনিত্য বস্তুর পেছনে না ছুটে নিত্য সত্য ব্রহ্মের উপলব্ধি জরুরি।
৩. কালের অনিবার্য ক্ষয়: দিন-রাত, শীত-বসন্ত আসে-যায় আর আয়ু ক্ষয় হয়, তবু মানুষ আশার বন্ধন ছাড়ে না। এ মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আত্মজ্ঞান লাভ করলে বোঝা যায়, জীবের মধ্যেই ব্রহ্ম বিদ্যমান।
৪. সামাজিক শিক্ষা: জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন, এই উপলব্ধি জীবের প্রতি ভালোবাসা জাগায় এবং জীবহিংসা কমায়।সুতরাং, মোহমুদগর কাব্যের শিক্ষা আমাদের সংসারের মায়া কাটিয়ে আত্মজ্ঞান লাভ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা 'জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই' উক্তিটির সত্যতা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও