যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আরিফ স্বপনকে বললো, "বিদ্যুৎ কী?” উত্তরে স্বপন বললো যে, বিদ্যুৎ হলো বৈদ্যুতিক চার্জের প্রবাহ। আরিফ বললো, তোমার উত্তর হয়নি। কারণ বিদ্যুৎ হলো দুটি জিনিসের ঘর্ষণ দ্বারা সৃষ্ট প্রবাহ যার ফলে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, কম্পিউটার ও. টেলিভিশন চলে। তাদের বন্ধু শাফি বললো, তোমাদের বক্তব্যের বাইরেও বিশ্বসভার কতকগুলো অপরিহার্য ধারণা আছে যাদের সংজ্ঞায়িত করা যায় না।

  1. ক)

    পরতম জাতি কী?

    (1)
  2. খ)

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শাফির বক্তব্য দ্বারা যৌক্তিক সংজ্ঞার কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে স্বপন ও আরিফের দ্বিতীয় বক্তব্যের পার্থক্য তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে জাতির চেয়ে উচ্চতর বা ব্যাপকতর কোনো জাতি হতে পারে না, তাকে পরতম জাতি বা পরম জাতি (Summum Genus) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দুটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো:
    ১. কোনো পদের অপরিহার্য জাত্যর্থ বা অর্থকে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রকাশ করা।
    ২. পদের সঠিক অর্থ নির্ধারণের মাধ্যমে চিন্তার অস্পষ্টতা দূর করা এবং যুক্তিপ্রয়োগে ভ্রান্তি বা বিভ্রান্তি পরিহার করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শাফির বক্তব্যের মাধ্যমে যৌক্তিক সংজ্ঞার 'সীমাবদ্ধতা' বোঝানো হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় সব পদকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোনো পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু এমন কিছু মৌলিক প্রত্যয় রয়েছে যাদের কোনো উচ্চতর জাতি নেই (যেমন: পরতম জাতি, যেমন- সত্তা) কিংবা যেগুলোর গুণকে অন্য কোনো ধারণায় বিশ্লেষণ করা যায় না (যেমন: স্থান, কাল, মৌলিক অনুভূতি বা ইন্দ্রিয়ানুভূতি ইত্যাদি)। এদের সংজ্ঞায়ন অসম্ভব।

    উদ্দীপকে শাফি বলেছে, বিশ্বসংসারের কতকগুলো অপরিহার্য ধারণা রয়েছে যাদের সংজ্ঞায়িত করা যায় না। শাফির এই বক্তব্য মূলত যুক্তিবিদ্যার যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বপনের বক্তব্যটি একটি যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং আরিফের দ্বিতীয় বক্তব্যটি একটি বর্ণনামূলক বা বাহুল্য দোষযুক্ত প্রয়াস, যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

    স্বপন বলেছে— "বিদ্যুৎ হলো বৈদ্যুতিক চার্জের প্রবাহ।" এটি বিদ্যুতের যথার্থ বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক স্বরূপ বা অপরিহার্য মৌলিক ধর্ম (জাত্যর্থ) প্রকাশ করে। এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মানুযায়ী কোনো অবান্তর লক্ষণ ছাড়াই গঠিত হয়েছে।

    অন্যদিকে আরিফ বিদ্যুতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে— "বিদ্যুৎ হলো দুটি জিনিসের ঘর্ষণ দ্বারা সৃষ্ট প্রবাহ যার ফলে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, কম্পিউটার ও টেলিভিশন চলে।" আরিফ এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া (ঘর্ষণ) এবং বিদ্যুতের ব্যবহারিক উপযোগিতা বা বাহ্যিক কার্যাবলি উল্লেখ করেছে। এটি পদের মৌলিক জাত্যর্থ নয়, বরং উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের প্রকাশ। এর ফলে এটি যৌক্তিক সংজ্ঞা না হয়ে বরং বর্ণনায় পর্যবসিত হয়েছে এবং এতে বাহুল্য দোষও ঘটেছে।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে, যৌক্তিক সংজ্ঞায় কেবল পদের মৌলিক জাত্যর্থ নির্দেশ করা হয়, যেখানে বর্ণনা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণের প্রকাশ ঘটে। অতএব স্বপনের বক্তব্য হলো 'সংজ্ঞা' এবং আরিফের বক্তব্য হলো 'বর্ণনা'।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন