কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রতি বছর আমাদের দেশের সরকার বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে জুন মাসব্যাপী কৃষি ও বৃক্ষ মেলার আয়োজন করে থাকে। এ মেলা উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ মেলা, কৃষি উৎপাদন ও বনজ সম্পদ বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
- ক)(1)
কৃষিবন কী?
- খ)(2)
সকল ট্রেনিং প্রুনিং নয়, কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মেলার বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের বাক্যটির যথার্থতা সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে বহুস্তরবিশিষ্ট ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে বৃক্ষ, মাঠফসল বা পশুপাখি ও মাছের সমন্বিত বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ পদ্ধতিকে কৃষিবন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্রেনিং (Training) হলো গাছের প্রাথমিক বৃদ্ধির সময় নির্দিষ্ট কাঠামো বা সুষম আকৃতি দেওয়ার জন্য ডালপালা ছাঁটাই ও পরিচালনা করা। অন্যদিকে প্রুনিং (Pruning) হলো পরিণত গাছে অধিক ফলন, বড় ফল ও রোগমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয়, রোগাক্রান্ত বা অতিরিক্ত ডালপালা কেটে ফেলা। ট্রেনিং মূলত গাছের কাঠামো তৈরির অংশ এবং এতে কখনও কখনও ছাঁটাই ছাড়াও ডাল বাঁধানো বা সোজা রাখার কৌশল ব্যবহার করা হয়; তাই ট্রেনিংয়ের সব কৌশলই প্রুনিং নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি ও বৃক্ষ মেলার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. উদ্ভিদ ও উন্নত জাতের প্রদর্শন: এ মেলায় বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের উন্নত ও আধুনিক জাত এবং কলম প্রদর্শিত ও বিক্রি করা হয়।
২. আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণের পরিচিতি: মেলায় কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষিযন্ত্রপাতি, উন্নত সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়।
৩. উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতা সৃষ্টি: বৃক্ষরোপণ ও কৃষি উন্নয়নের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ জনগণ ও চাষিদের সচেতন ও উৎসাহিত করার জন্য তথ্যচিত্র, লিফলেট এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়।
৪. পরামর্শ সেবা ও প্রশিক্ষণ: সরকারি ও বেসরকারি কৃষি কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা সরাসরি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও চারা রোপণের সঠিক নিয়ম শেখান।
৫. উৎসবমুখর পরিবেশ ও প্রতিযোগিতা: মেলায় বৃক্ষপ্রেমী ও কৃষকদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা স্টল ও চাষিদের পুরস্কৃত করা হয়, যা জনগণের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষের বাক্যটি হলো—"এ মেলা, কৃষি উৎপাদন ও বনজ সম্পদ বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে"। উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মানসম্পন্ন চারার সহজলভ্যতা: বৃক্ষ মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উন্নত জাতের, রোগমুক্ত ও দ্রুত বর্ধনশীল চারার সন্ধান পায় এবং সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বসতবাড়ি ও পতিত জমিতে বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি পায়।
২. কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার: কৃষকরা মেলা থেকে নতুন নতুন ফসলের উন্নত জাত, সার-বালাইনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৩. বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি: মেলা মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরি করে। জুন মাসের বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণ অভিযান হওয়ায় চারা টিকে থাকার হার বেশি হয়, যা দেশের সামগ্রিক বনজ সম্পদ ও বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকা সম্প্রসারণ করে।
৪. অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন: বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যক্তিপর্যায়ে ফলমূল ও কাঠের প্রাপ্তি নিশ্চিত হয় এবং জাতীয়ভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস পায়।অতএব, কৃষি ও বৃক্ষ মেলা মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করে দেশে সবুজ বিপ্লব ও বনজ সম্পদ বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে বাক্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও