হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

হঠাৎ করেই প্রিয়াদের পরিবারে দরিদ্র্য নেমে এসেছে। তখন এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত এসে প্রিয়ার বাবা-মাকে বললেন, নিয়মিত এক বিশেষ দেবীর পূজা করতে হবে। উক্ত দেবীকে ধন-সম্পদের দেবী বলা হয়। তাছাড়া এই দেব- দেবীরা হচ্ছেন একই ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। ব্রাহ্মণের কথায় প্রিয়াদের পরিবারে ভক্তিসহকারে পূজার আয়োজন করা হয়।

  1. ক)

    পূজা শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি- কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    প্রিয়াদের বাড়িতে কোন বিশেষ দেবীর পূজা করা হয়? উক্ত পূজা পদ্ধতি উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দেব-দেবীরা একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    'পূজা' শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো।

  2. খ)

    'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি' ঋগ্বেদের একটি বাণী। এর অর্থ, সদ্বস্তু বা সত্য এক, বিপ্রগণ বা জ্ঞানীরা তাঁকে বহু নামে বর্ণনা করেন।

    এ বাণীতে বোঝানো হয়েছে, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। দেব-দেবীরা সেই এক ঈশ্বরেরই ভিন্ন ভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ।

  3. গ)

    প্রিয়াদের বাড়িতে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।

    লক্ষ্মী দেবীর পরিচয়: লক্ষ্মী সৌভাগ্য, ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি আমাদের বিভিন্ন সম্পদ দান করেন। বিষ্ণু, শিব ও লক্ষ্মীর পূজা প্রতিদিনই করা হয়।

    পূজা পদ্ধতি: ঈশ্বরের কোনো রূপ বা দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তি সহকারে ফুল, দূর্বা, তুলসী পাতা, বিল্বপত্র, চন্দন, আতপচাল, ধূপ, দীপ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে পূজা করা হয়। পূজায় পুরোহিত অগ্রভাগে থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয় তাকে যজমান বলে। সামাজিক অংশগ্রহণের দিক থেকে পূজা পারিবারিক ও সর্বজনীন, এ দুই রকম। পূজার উদ্দেশ্য ঈশ্বর বা দেব-দেবীর কাছে মাথা নত করা ও তাঁদের সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস।

    উদ্দীপকের আলোকে: ব্রাহ্মণ পণ্ডিত প্রিয়ার বাবা-মাকে নিয়মিত ধন-সম্পদের দেবীর পূজা করতে বললেন। প্রিয়াদের পরিবার ভক্তিসহকারে পূজার আয়োজন করল। এটি পারিবারিক পূজা। এতে ব্রাহ্মণ পুরোহিত বা পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন এবং ভক্তি ছিল মূল ভিত্তি।

    অতএব, প্রিয়াদের বাড়িতে লক্ষ্মী দেবীর পূজা এ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।

  4. ঘ)

    "দেব-দেবীরা একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ধারণা: বেদ ও উপনিষদে বলা হয়েছে, ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ঈশ্বর সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের কর্তা। তিনি নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করেন। দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ।

    ১. বেদের সাক্ষ্য: ঋগ্বেদে ইন্দ্র, অগ্নি, বায়ু, উষা প্রভৃতির স্তুতি আছে। এঁরা ভিন্ন ভিন্ন শক্তির পরিচয় বহন করলেও এঁদের সম্মিলিত শক্তির কেন্দ্র ঈশ্বর। ঋষিরা বলেছেন, 'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি'। কঠোপনিষদে আছে, 'নেহ নানাস্তি কিঞ্চন' অর্থাৎ ব্রহ্ম থেকে পৃথক কিছু নেই।
    ২. ঈশ্বরের গুণ ও শক্তির প্রকাশ: ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে বিশেষ আকারে প্রকাশ করেন। ব্রহ্মা সৃষ্টির, বিষ্ণু পালনের, শিব প্রলয়ের দেবতা। সরস্বতী বিদ্যার দেবী এবং লক্ষ্মী ধন-সম্পদের দেবী। দেব-দেবীরা পরিপূর্ণ ঈশ্বর না হলেও ঈশ্বরের এক বা একাধিক গুণ বা শক্তি ধারণ করেন।
    ৩. উদ্দীপকের প্রয়োগ: ব্রাহ্মণ পণ্ডিত বলেছেন, এই দেব-দেবীরা একই ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। দারিদ্র্য থেকে মুক্তির জন্য প্রিয়ারা ধন-সম্পদের দেবীর পূজা করেছে। কারণ ঈশ্বরের ঐশ্বর্য ও সম্পদদাতা রূপই লক্ষ্মী।
    ৪. রামকৃষ্ণের সমন্বয়: ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় সাকার ও নিরাকার সমন্বিত হয়েছে। 'যত মত, তত পথ'। সাকার দেবী কালীও যিনি, নিরাকার এক ব্রহ্মও তিনি।

    সুতরাং, হিন্দুধর্মে বহু দেব-দেবীর পূজা প্রচলিত থাকলেও মূলত এক পরমেশ্বরেরই উপাসনা করা হয়। তাই দেব-দেবীরা একই ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ, উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন