বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বিজ্ঞান প্রশ্ন
- ক)(1)
পরিস্রাবণ কাকে বলে?
- খ)(2)
জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড নরম হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' ধাপের পানি দূষণের সম্ভাব্য কারণসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' ধাপের কোনো গুরুত্ব আছে কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পরিস্রাবণ হলো ছাঁকনি বা ফিল্টার কাগজের সাহায্যে তরলের সঙ্গে মিশে থাকা অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থকে আলাদা করার প্রক্রিয়া।
- খ)
জলজ উদ্ভিদ পানিতে ভাসমান বা নিমজ্জিত অবস্থায় বাস করে। পানির স্রোত ও ঢেউয়ের টানে এদের কাণ্ড সহজে বাঁকা হতে পারা দরকার।
কাণ্ড শক্ত হলে স্রোতের চাপে ভেঙে যেত। তাই এদের কাণ্ডে দৃঢ় কোষকলা কম থাকে এবং কাণ্ড নরম ও নমনীয় হয়। এতে স্রোতের সঙ্গে সহজে নুয়ে পড়ে উদ্ভিদ টিকে থাকতে পারে।
- গ)
উদ্দীপকের ‘A’ ধাপ হলো শিল্প-কারখানার সৃষ্ট বর্জ্য। এটি পানিদূষণের একটি প্রধান কারণ। এর সম্ভাব্য কারণসমূহ :
১. শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা : কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ট্যানারির বর্জ্য, রং, তেল ও ভারী ধাতু (সিসা, পারদ ইত্যাদি) পরিশোধন ছাড়াই নদী বা খালে ফেলা হয়।
২. বর্জ্য শোধনাগারের অভাব : অনেক কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (ইটিপি) থাকে না বা থাকলেও চালু রাখা হয় না।
৩. অম্লীয় ও ক্ষারীয় তরল : কারখানার অম্লীয় বা ক্ষারীয় বর্জ্য পানির pH পরিবর্তন করে দেয়।
৪. তাপীয় দূষণ : কারখানার গরম পানি নদীতে ফেললে পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে।এসব কারণে পানি দূষিত হয়ে জলজ জীব ও মানুষের ক্ষতি করে।
- ঘ)
উদ্দীপকের ‘B’ ধাপ হলো প্রতিরোধের কৌশল এবং জনসচেতনতা। পানিদূষণ রোধে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
১. কৌশল প্রয়োগ : কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা, বর্জ্য পরিশোধন করে তারপর নদীতে ফেলা এবং দূষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে শিল্পবর্জ্যজনিত দূষণ কমে।
২. জনসচেতনতা : গৃহস্থালির আবর্জনা, প্লাস্টিক ও মলমূত্র নদীতে না ফেলা এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ব্যাপারে মানুষ সচেতন হলে উৎসেই দূষণ কমানো যায়।
৩. সম্মিলিত ফল : সচেতন জনগণ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আইন বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।সুতরাং, ‘B’ ধাপের কৌশল ও জনসচেতনতা পানিদূষণ প্রতিরোধ ও জলজ জীব এবং মানুষের সুস্থতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও