পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
পাকবাহিনীর এক রাতের নারকীয় হত্যাকাণ্ড এখনো বিশ্বব্যাপী নিন্দিত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই রাতে তারা নির্বিচারে একের পর এক মানুষ হত্যা করে। প্রথমে ঢাকা এবং পরবর্তীতে সারাদেশে এই হত্যাকান্ড পরিচালিত হয়। ইতিহাসে এই রাতটির একটি বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছে।
- ক)(1)
অসহযোগ আন্দোলন কী?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একমাত্র কারণ নয়- তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৭১ সালের মার্চে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পাকিস্তান সরকারের সাথে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে অসহযোগ আন্দোলন বলে।
- খ)
দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো এমন একটি মতবাদ, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের হিন্দু ও মুসলমানকে দুটি পৃথক জাতি বলা হয়। এ তত্ত্ব অনুযায়ী দুই সম্প্রদায়ের ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য আলাদা, তাই তারা একসাথে এক রাষ্ট্রে থাকতে পারে না। মুহম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্বের মূল প্রবক্তা। এর ভিত্তিতেই মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবি ওঠে।
- গ)
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির গণহত্যা (অপারেশন সার্চলাইট) এর কথা বলা হয়েছে।
আলোচনায় ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায় তারা নির্বিচারে ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। পরে এ হত্যাকাণ্ড সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্দীপকের বর্ণনা, অর্থাৎ প্রথমে ঢাকা ও পরে সারাদেশে নির্বিচার হত্যা, এ ঘটনার সাথেই মিলে যায়। এ রাতের পর বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
- ঘ)
আমি একমত যে ২৫ মার্চের হত্যাকাণ্ড স্বাধীনতা অর্জনের একমাত্র কারণ নয়। এটি ছিল চূড়ান্ত ঘটনা, কিন্তু এর পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস ছিল।
১. ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য: ১৯৪৮-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়নি, যা বাঙালির জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলে।
২. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পশ্চিমে চলে যেত এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় বাঙালির অংশ ছিল না। এর প্রতিবাদে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়।
৩. ১৯৭০ সালের নির্বাচন: আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও ক্ষমতা পায়নি; অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় অসহযোগ আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণ আসে।
সুতরাং, ২৫ মার্চের গণহত্যা স্বাধীনতার একমাত্র কারণ নয়; দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতিতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও