জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পরাগায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    সংকরায়নে ইমাস্কুলেশন প্রয়োজন কেন- ব্যাখ্যা কর

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'A' চিত্রে নির্দেশিত প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত 'X' ও 'Y' এর মিলন ব্যতীত উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে যৌন জনন সম্ভব নয়- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরাগায়ন হলো পরাগধানী থেকে পরাগরেণু কোনো মাধ্যমের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে একই ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য কোনো ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়ার প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদ প্রজনন বা কৃত্রিম সংকরায়নে কাঙ্ক্ষিত পরাগায়ন নিশ্চিত করার জন্য ইমাস্কুলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উভলিঙ্গ ফুলের ক্ষেত্রে ফুল ফোটার পূর্বে বা পরাগধানী ফেটে পরাগরেণু মুক্ত হওয়ার আগেই ফুল থেকে পুংকেশর কেটে অপসারণ করার পদ্ধতিকে ইমাস্কুলেশন বলে। উভলিঙ্গ ফুলে যদি পুংকেশর রেখে দেওয়া হয়, তবে ফুলটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত স্ব-পরাগায়ন ঘটে যেতে পারে। ফলে কৃত্রিম সংকরায়নে নির্বাচিত কাঙ্ক্ষিত পিতৃ উদ্ভিদের পরাগরেণু দিয়ে গর্ভমুণ্ডকে নিষিক্ত করা সম্ভব হয় না। তাই স্ব-পরাগায়ন রোধ করে পর-পরাগায়নের মাধ্যমে সফল সংকরায়ন নিশ্চিত করতেই ইমাস্কুলেশন প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র ‘A’ তে পুং-গ্যামিটোফাইটের পরিস্ফুটন বা বিকাশ প্রক্রিয়া নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এ প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:

    ১. পরাগরেণু পুং-গ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। এটি এককোষী ও হ্যাপ্লয়েড।
    ২. পরাগায়নের পূর্বে পরাগরেণুটির নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে একটি বড় ‘নালিকা নিউক্লিয়াস’ (Tube nucleus) এবং একটি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকার ‘জনন নিউক্লিয়াস’ (Generative nucleus) গঠন করে।
    ৩. উপযুক্ত গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়ার পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডের রস শোষণ করে স্ফীত হয়। এর ফলে অন্তঃত্বক বা ইনটাইনটি রেণুরন্ধ্রের মধ্য দিয়ে নালিকা আকারে বাইরে বেরিয়ে আসে, যাকে পরাগনালিকা (Pollen tube) বলা হয়।
    ৪. পরাগনালিকার অগ্রভাগে নালিকা নিউক্লিয়াসটি অবস্থান করে এবং এর পেছনে জনন নিউক্লিয়াসটি প্রবেশ করে।
    ৫. পরবর্তীতে জনন নিউক্লিয়াসটি পুনরায় মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে দুটি হ্যাপ্লয়েড পুং জননকোষ বা শুক্রাণু (চিত্রে ‘X’) গঠন করে।

    এভাবে একটি পরাগনালিকা, নালিকা নিউক্লিয়াস ও দুটি পুং জননকোষ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পুং-গ্যামিটোফাইট বিকশিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ‘X’ হলো পুং জননকোষ (শুক্রাণু) এবং ‘Y’ হলো স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু। উচ্চ শ্রেণির সপুষ্পক উদ্ভিদে এই দুইয়ের মিলন (নিষেক) ব্যতীত যৌন জনন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. যৌন জননের মৌলিক শর্ত: যৌন জননের প্রধান শর্তই হলো দুটি বিপরীতধর্মী হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষের মিলন বা সিনগ্যামি। উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে পুং জননকোষ (X) এবং ডিম্বাণু (Y) পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি করে।
    ২. নতুন বংশধর ও ভ্রূণ সৃষ্টি: জাইগোট পরবর্তীতে বারবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণে পরিণত হয়, যা পরবর্তীতে নতুন চারাগাছ সৃষ্টি করে। X ও Y-এর মিলন না ঘটলে এই ভ্রূণ গঠন সম্ভব হতো না।
    ৩. বীজ ও ফল উৎপাদন: নিষেক প্রক্রিয়ার পর ডিম্বকটি বীজে এবং গর্ভাশয়টি ফলে রূপান্তরিত হয়। বীজ হলো উদ্ভিদের যৌন জননের চূড়ান্ত ফল, যা প্রজাতির বংশপরম্পরা রক্ষা করে।
    ৪. ক্রোমোজোম সংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা: মিয়োসিস বিভাজনের ফলে জননকোষগুলোতে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) হয়। পুং জননকোষ (X) ও ডিম্বাণু (Y)-এর মিলনের মাধ্যমে প্রজাতিতে নির্দিষ্ট ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

    অতএব, উদ্ভিদে বংশবৃদ্ধি, বংশগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা, জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি এবং বীজ উৎপাদনের জন্য X (পুং জননকোষ) ও Y (ডিম্বাণু)-এর মিলন অপরিহার্য। সুতরাং উদ্ভিদের যৌন জনন এদের মিলন ব্যতীত কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন