জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পেরিস্ট্যালসিস কী?
- খ)(2)
পাকস্থলির স্ফিংস্টার দুটির নাম ও কাজ লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' চিহ্নিত অংশের বিপাকীয় ভূমিকা লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'Q' চিহ্নিত অংশটি হতে নিঃসৃত হরমোন রক্তে গ্লুকোজের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌষ্টিকনালির প্রাচীরের মসৃণ পেশির ছন্দোবদ্ধ সংকোচন ও প্রসারণের ফলে খাদ্যবস্তু যে প্রক্রিয়ায় পৌষ্টিকনালির মধ্য দিয়ে ক্রমান্বয়ে মুখবিবর থেকে পায়ুর দিকে অগ্রসর হয়, তাকে পেরিস্ট্যালসিস (Peristalsis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকস্থলির স্ফিংস্টার (Sphincter) দুটির নাম ও কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. কার্ডিয়াক স্ফিংস্টার (Cardiac Sphincter): এটি অন্ননালি ও পাকস্থলির সংযোগস্থলে অবস্থিত। এর কাজ হলো পাকস্থলিতে গৃহীত খাদ্যকে পুনরায় অন্ননালিতে বা মুখে ফিরে আসতে বাধা দেওয়া।
২. পাইলোরিক স্ফিংস্টার (Pyloric Sphincter): এটি পাকস্থলি ও ডুওডেনামের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এর কাজ হলো পাকস্থলি থেকে অর্ধপরিপাককৃত খাদ্যমণ্ড (কাইম) নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করানো এবং খাদ্য যাতে বিপরীত দিকে ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে পাকস্থলিতে ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'P' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি যকৃত (Liver)। বিপাক প্রক্রিয়ায় যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে যকৃতের প্রধান বিপাকীয় ভূমিকাগুলো আলোচনা করা হলো:
১. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বিপাক: রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে যকৃত ইনসুলিনের প্রভাবে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে। প্রয়োজনে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে সরবরাহ করে। এছাড়াও অশর্করা উৎস (যেমন অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লিসারল) থেকে গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ তৈরি করে।
২. প্রোটিন বিপাক: যকৃত অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডকে ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে কিটো অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়া তৈরি করে। পরবর্তীতে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়াকে অর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ইউরিয়াতে রূপান্তরিত করে, যা মূত্রের সাথে নিষ্কাশিত হয়। এছাড়াও রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন (যেমন- ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন) এবং প্লাজমা প্রোটিন অ্যালবুমিন যকৃতেই সংশ্লেষিত হয়।
৩. লিপিড বিপাক: যকৃতে ফ্যাটি অ্যাসিড জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয় (বিটা-অক্সিডেশন)। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়ে লাইপোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় জমা থাকে। যকৃত কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড ও লিপোপ্রোটিন তৈরি ও বিপাকে অংশ নেয়।
৪. লোহিত রক্তকণিকা ও পিত্ত বিপাক: যকৃতে পুরাতন ও ক্ষয়প্রাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরি হয়, যা পিত্তরসের উপাদান হিসেবে নির্গত হয়।
সুতরাং, মানবদেহের নানাবিধ জৈবরাসায়নিক ও বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনায় যকৃতের ভূমিকা অপরিহার্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'Q' চিহ্নিত অংশটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃখরা অংশ তথা আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) থেকে মূলত দুটি প্রধান হরমোন—ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য (হোমিওস্ট্যাসিস) নিয়ন্ত্রণে পরস্পরের বিপরীতমুখী কিন্তু সমন্বিত ভূমিকা পালন করে। রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এ হরমোনগুলোর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ইনসুলিন (Insulin)-এর ভূমিকা:
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা (β) কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ইনসুলিন নিম্নোক্ত উপায়ে তা হ্রাস করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে:- গ্লাইকোজেনেসিস: যকৃত ও পেশিকোষে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে সঞ্চিত উপাদান গ্লাইকোজেনে রূপান্তরকে উদ্দীপিত করে।
- কোষীয় গ্লুকোজ গ্রহণ বৃদ্ধি: এটি দেহকোষের মেমব্রেনের গ্লুকোজের প্রতি ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে, ফলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ দ্রুত কোষে প্রবেশ করে এবং শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- লিপোজেনেসিস: অতিরিক্ত গ্লুকোজকে মেদকলায় ফ্যাট বা চর্বি হিসেবে রূপান্তর ও সঞ্চয়ে সহায়তা করে।
- গ্লুকোজ উৎপাদনের অন্যান্য প্রক্রিয়া (যেমন গ্লাইকোজেনোলাইসিস ও গ্লুকোনিওজেনেসিস) দমন করে।
২. গ্লুকাগন (Glucagon)-এর ভূমিকা:
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের আলফা (α) কোষ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। অনাহার বা উপবাসের সময় অথবা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে এটি নিম্নোক্ত উপায়ে তা বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক অবস্থায় আনে:- গ্লাইকোজেনোলাইসিস: এটি যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তস্রোতে পাঠায়।
- গ্লুকোনিওজেনেসিস: যকৃতে অশর্করা উৎস যেমন অ্যামিনো অ্যাসিড ও গ্লিসারল থেকে নতুন গ্লুকোজ সংশ্লেষণ ত্বরান্বিত করে।
৩. সোমাটোস্ট্যাটিন (Somatostatin):
ডেল্টা (δ) কোষ থেকে ক্ষরিত হয়ে এটি প্রয়োজনে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন উভয়ের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।সুতরাং, ইনসুলিন রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে এবং গ্লুকাগন রক্তে কমে যাওয়া গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা (সাধারণত ৮০-১২০ mg/dL বা ৪.৪-৬.৭ mmol/L) সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও