অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার্জনকারী শিল্প হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এ শিল্পে নানাবিধ সমস্যা বিরাজমান। তন্মধ্যে শ্রমিকের দক্ষতার অভাব, কাঁচামালের অভাব, পর্যাপ্ত ঋণের অভাব, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, তীব্র প্রতিযোগিতা ও কোটা পদ্ধতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ক)(1)
রপ্তানিমুখী শিল্প কী?
- খ)(2)
আমদানি বিকল্প শিল্পের ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে বিরাজমান তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাবলি আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাবলি সমাধানের জন্য তুমি কী কী সুপারিশ করবে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশে পণ্য রপ্তানি করার উদ্দেশ্যে দেশে যে শিল্প গড়ে ওঠে বা যে শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের সিংহভাগ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়, তাকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি না করে বা আমদানির পরিমাণ হ্রাস করার লক্ষ্যে নিজস্ব উদ্যোগে দেশের অভ্যন্তরে সেই পণ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে শিল্প গড়ে তোলা হয়, তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে।
এ ধরনের শিল্পের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের চাহিদা পূরণ করা। এর ফলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়, অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পায় এবং দেশের নিজস্ব শিল্প খাত শক্তিশালী হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শ্রমিকের দক্ষতার অভাব: এ শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণবিহীন। প্রয়োজনীয় আধুনিক কারিগরি দক্ষতার অভাবে উৎপাদনের গতি ও মান উন্নত দেশের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।
২. কাঁচামালের অভাব: পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল যেমন— তুলা, সুতা ও কাপড় এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
৩. পর্যাপ্ত ঋণের অভাব: নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে পর্যাপ্ত ঋণ পান না।
৪. জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সমস্যা: অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ এবং ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৫. তীব্র প্রতিযোগিতা ও কোটা সুবিধা বিলুপ্তি: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কোটা পদ্ধতি প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ চীন, ভিয়েতনাম, ভারত প্রভৃতি দেশের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিরাজমান সমস্যাবলি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসমূহ নিচে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য শ্রমিক ও মধ্যম সারির ব্যবস্থাপকদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে হবে, যা উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
২. ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ: তুলা, সুতা, বোতাম ও কাপড়ের মতো প্রধান কাঁচামাল দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ ও প্রণোদনা দেওয়া দরকার, যাতে কাঁচামালের জন্য আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পায়।
৩. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ: শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৪. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সহজ শর্তে বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. নতুন বাজার অনুসন্ধান ও পণ্যের বহুমুখীকরণ: শুধু প্রথাগত পোশাকের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের বৈচিত্র্যময় পোশাক তৈরি এবং আমেরিকা ও ইউরোপের বাইরে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, লাতিন আমেরিকার মতো নতুন বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে।
৬. বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ: চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের পরিবহন জটিলতা নিরসন করে দ্রুত পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং কারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে।পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প টেকসই হবে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও