হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সঞ্জয় বাবু ছিলেন একজন প্রভাবশালী লোক। তিনি নিজেকে অনেক বড় মনে করেন। ঈশ্বর বলতে তিনি কিছু বোঝেন না। তিনি মনে করেন, নিজেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু তার ছেলে বিজয় ঈশ্বরভক্ত। সে ঈশ্বর ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবা তাকে মারতে চাইলেও সে বেঁচে যায়। তার বিশ্বাস ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে।

  1. ক)

    সদাচার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের সাথে সঞ্জয় বাবুর চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিজয়ের বিশ্বাস "ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে"-উক্তিটি 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আবহমানকাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুষ্ঠিত আচরণই সদাচার।

  2. খ)

    'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ' অর্থ হলো নিজের মোক্ষ বা মুক্তির জন্য এবং জগতের কল্যাণের জন্য।
    পাঠ্যবই অনুযায়ী যে পথে চললে নিজের মোক্ষলাভ এবং জীব ও জগতের কল্যাণ সাধন হয়, সেই পথই ধর্মপথ। অর্থাৎ ধর্মসাধনা কেবল নিজের মুক্তির জন্য নয়, সমগ্র জগতের হিতের জন্যও।

  3. গ)

    সঞ্জয় বাবুর চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানের হিরণ্যকশিপু চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

    হিরণ্যকশিপু ছিলেন সত্যযুগের দৈত্যরাজ। তিনি হরিবিদ্বেষী ছিলেন এবং নিজেকে সর্বশক্তিমান মনে করতেন। তিনি বর পেয়েছিলেন যে কোনো দেব, নর বা যক্ষ কোনো অস্ত্র দিয়ে কোনো স্থানে দিনে বা রাতে তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। তাই তাঁর ক্ষমতার অহংকার ছিল। তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন হরিভক্ত। হরিভক্তির কারণে তিনি পুত্রকে শূল, বিষ, হাতি, সাপ ও পর্বত থেকে নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা করেন।

    মিল: উদ্দীপকের সঞ্জয় বাবু প্রভাবশালী ও অহংকারী। তিনি ঈশ্বরকে মানেন না এবং নিজেকেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ভাবেন। ঈশ্বরভক্ত পুত্র বিজয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তাকে মারতে চান, কিন্তু বিজয় বেঁচে যায়। হিরণ্যকশিপুও প্রহ্লাদকে মারতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এভাবে দুজনই ঈশ্বরবিদ্বেষী, ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ এবং ভক্ত পুত্রের শত্রু।

  4. ঘ)

    বিজয়ের বিশ্বাস 'ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে' যথার্থ। 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানে প্রহ্লাদের জীবনই এর প্রমাণ।

    মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে এবং ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে। ধার্মিক সাময়িক কষ্ট পেলেও পরিণামে ধর্মের জয় হয়।

    ১. বারবার মৃত্যু থেকে রক্ষা: হিরণ্যকশিপুর আদেশে প্রহ্লাদের বুকে শূল নিক্ষেপ করা হলেও হরিনামে পবিত্র বক্ষে তা বিদ্ধ হয়নি। এরপর বিষ মেশানো অন্ন, হাতির পায়ের নিচে, বিষধর সর্পের মধ্যে এবং পর্বত থেকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হলেও তিনি বেঁচে যান। বিজয়ও বাবার হাত থেকে বেঁচে যায়।
    ২. ধর্মই শক্তি: প্রহ্লাদ বলেছিলেন, তিনি ধর্মের বলে শ্রীহরির পূজা করছেন, যিনি সকলের বন্ধু, প্রাণ ও ত্রাণকারী প্রভু। ঈশ্বর সর্বত্র থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন। বিজয়েরও একই বিশ্বাস।
    ৩. অধর্মের পরাজয়: স্ফটিক স্তম্ভ থেকে নৃসিংহ অবতাররূপে শ্রীহরি বেরিয়ে এসে হিরণ্যকশিপুকে নখ দিয়ে বধ করেন। এভাবে অহংকারী অধার্মিকের ধ্বংস হয়।
    ৪. ভক্তির পুরস্কার: শ্রীহরি দেখা দিলে প্রহ্লাদ তাঁর কাছে চেয়ে নেন অবিচল ভক্তি। ধার্মিকের জয়ে শান্তি ও ঈশ্বরকৃপা লাভ হয়।

    সুতরাং, প্রহ্লাদের উপাখ্যান প্রমাণ করে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে এবং ধর্মের জয় অবশ্যম্ভাবী। বিজয়ের বিশ্বাস সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন