যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কারণ কী?
- খ)(2)
কারণ ও শর্ত কি এক? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছকে কোন মতবাদটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
ছকের মতবাদটি কি গ্রহণযোগ্য? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তিদাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, গুণের দিক থেকে কারণ হলো কার্যের নিয়ত, শর্তহীন ও অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা এবং পরিমাণের দিক থেকে কারণ কার্যের সমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, কারণ ও শর্ত এক নয়; এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
কারণ হলো কোনো কার্যের জন্য প্রয়োজনীয় সদর্থক ও নঞর্থক সকল শর্তের সমষ্টি। অন্যদিকে, শর্ত হলো কারণের একটি অপরিহার্য বা অবিচ্ছেদ্য অংশ মাত্র। একটি কারণ গঠিত হতে একাধিক শর্তের উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে, তবে একক কোনো শর্তকে সম্পূর্ণ কারণ বলা যায় না। সুতরাং, শর্ত হলো কারণের অংশ আর কারণ হলো সমগ্র বা সমষ্টি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে যুক্তিবিদ্যার 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) মতবাদটি প্রতিফলিত হয়েছে।
বহুকারণবাদ অনুসারে, একই কার্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বা পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, একটি কার্যের কেবল একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকবে এমন নয়, বরং বিভিন্ন কারণে একই ফল বা কার্য ঘটতে পারে।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, 'বিদ্যুতের উৎস' হিসেবে কয়লা, গ্যাস, সূর্যালোক, তাপ এবং পানি নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পেছনে একাধিক স্বতন্ত্র কারণ বা উৎস কাজ করছে। সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হয় একই কার্য (বিদ্যুৎ) ভিন্ন ভিন্ন উৎস বা কারণ থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল, বেইন প্রমুখ যুক্তিবিদ এই বহুকারণবাদের সমর্থক। সুতরাং উদ্দীপকের চিত্রে বহুকারণবাদের ধারণাই সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে প্রতিফলিত বহুকারণবাদের মতবাদটি বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. কারণের সাধারণ সংজ্ঞা ও নিয়ম লঙ্ঘন: কার্যকারণ নিয়মানুসারে, 'একই কারণ সবসময় একই কার্য উৎপন্ন করে এবং একই কার্য সবসময় একই কারণ থেকেই উৎপন্ন হয়।' কিন্তু বহুকারণবাদ এই সার্বজনীন নিয়মকে অস্বীকার করে।
২. কার্যের অপর্যাপ্ত ও শিথিল বিশ্লেষণ: বহুকারণবাদীরা কার্যকে সামগ্রিক বা সাধারণ আকারে গ্রহণ করেন, কিন্তু বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতার সাথে বিশ্লেষণ করেন না। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন উৎস (যেমন কয়লা, জলপ্রবাহ, সূর্যালোক) থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও শক্তির রূপান্তরের বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো মূলত শক্তির সংরক্ষণশীলতা নিয়ম (শক্তি কেবল রূপ পরিবর্তিত হয়, নতুন শক্তি সৃষ্টি হয় না) অনুসরণ করে।
৩. কারণকে খণ্ডিতভাবে দেখা: কোনো কোনো বিজ্ঞানী ও যুক্তিবিদ (যেমন কার্ভেথ রিড) উল্লেখ করেছেন যে, কারণকে যদি তার সামগ্রিক ও প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটি মাত্র অনন্য কারণই বিদ্যমান থাকে। কয়লা বা পানি সরাসরি বিদ্যুৎ তৈরি করে না, মূলত যান্ত্রিক শক্তি যখন তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তখনই বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়। সুতরাং আসল কারণ হলো যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর।
পরিশেষে বলা যায়, ব্যবহারিক বা সাধারণ দৃষ্টিতে বহুকারণবাদকে সত্যি মনে হলেও বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের মানদণ্ডে এটি ভ্রান্ত ও অগ্রহণযোগ্য একটি মতবাদ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও