ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

মিস জ্যোতিকে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও কৌশল প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। অন্যদিকে, ফোরম্যানকে একই সাথে উৎপাদন সাবস্থাপক ও বিক্রয় ব্যবস্থাপকের আদেশ পালন করতে হয়। ফলে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন না, যা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

  1. ক)

    বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?

    (1)
  2. খ)

    'ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন'-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মিস জ্যোতি ব্যবস্থাপনার কোন স্তরের কর্মকর্তা? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'আদেশের ঐক্য' নীতি লঙ্ঘিত হওয়ায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন এফ ডব্লিউ টেলর (Frederick Winslow Taylor)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে, 'ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন' (Management is universal); অর্থাৎ যেখানেই মানবীয় ও দলবদ্ধ প্রচেষ্টা রয়েছে, সেখানেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান।

    ব্যবস্থাপনার নীতি ও কৌশলসমূহ কেবল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সেনাবাহিনী এমনকি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ যে কোনো সামাজিক সংগঠনে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি আবশ্যক। এই সর্বজনীন উপযোগিতার কারণেই ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনীন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মিস জ্যোতি ব্যবস্থাপনার উচ্চস্তরের (Top-level) কর্মকর্তা।

    যে স্তরের ব্যবস্থাপকগণ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উদ্দেশ্য, মৌলিক নীতিমালা, কৌশল নির্ধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে জড়িত থাকেন, তাদের উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপক বলা হয়। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ইত্যাদি পদ এর অন্তর্ভুক্ত।

    উদ্দীপকে মিস জ্যোতিকে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও কৌশল প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মৌলিক ও নীতি-নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ ধরনের কাজ উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত হওয়ায় মিস জ্যোতি উচ্চস্তরের কর্মকর্তা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে 'আদেশের ঐক্য' নীতি লঙ্ঘিত হওয়ার কারণেই প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে—বক্তব্যটি যথার্থ।

    ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো 'আদেশের ঐক্য' নীতি (Unity of command)। এই নীতি অনুযায়ী, একজন অধস্তন কর্মী কেবল একজন মাত্র ঊর্ধ্বন কর্মকর্তার নিকট থেকে আদেশ পাবেন এবং সরাসরি তার কাছেই জবাবদিহি করবেন। একই সাথে একাধিক ব্যক্তির আদেশ পেলে কর্মীর মধ্যে বিভ্রান্তি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং কাজের গতি স্থবির হয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ফোরম্যানকে একই সাথে দুজন ঊর্ধ্বন কর্মকর্তা—উৎপাদন ব্যবস্থাপক এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপকের নির্দেশ পালন করতে হয়। এর ফলে ফোরম্যান কার আদেশ আগে পালন করবেন কিংবা কার নির্দেশ প্রাধান্য দেবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। ফলে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন না এবং কাজের সমন্বয় বিনষ্ট হয়। দ্বৈত অধীনতার কারণে কর্মক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি ও দায়িত্বহীনতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    সুতরাং, আদেশের ঐক্য নীতি লঙ্ঘিত হওয়ার ফলেই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন