যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: বই হয় পুস্তক।
দৃশ্যকল্প-২: মানুষ হয় সৃষ্টির মুকুট।
দৃশ্যকল্প-৩: পাপ নয় পুণ্য।

  1. ক)

    সংজ্ঞেয় পদ কী?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ নির্দেশিত বিষয়ের তুলনামূলক পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদের সংজ্ঞা প্রদান করা হয় তাকে সংজ্ঞেয় পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে তার আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু মৌলিক গুণসমূহ (যেমন: লালত্ব, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি) হলো চরম ও অবিভাজ্য সরল গুণ। এগুলো কোনো বৃহত্তর শ্রেণির অংশ নয় এবং এদের কোনো বিভেদক লক্ষণ নেই যা দিয়ে এদের বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এদের কেবল ইন্দ্রিয়ানুভূতির সাহায্যে প্রত্যক্ষ করা যায়, ফলে এদের যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'চক্রক সংজ্ঞা' (Circular Definition) জনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সেই পদটিকে সংজ্ঞায় ব্যবহার করা যাবে না এবং সংজ্ঞায় কোনো সমার্থক বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় তার সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে।

    দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে 'বই হয় পুস্তক'। এখানে 'বই' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তার একটি সমার্থক শব্দ 'পুস্তক' ব্যবহার করা হয়েছে, যা বই পদের আসন্নতম জাতি বা লক্ষণ নির্দেশ করে না এবং পদের অর্থকেও স্পষ্ট করে না। ফলে এখানে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত বিষয় হলো 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ নির্দেশিত বিষয় হলো 'নেতিবাচক সংজ্ঞা অনুপপত্তি'। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের তুলনামূলক পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নিয়মের লঙ্ঘনজনিত পার্থক্য:
    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞা সবসময় স্পষ্ট ও সহজবোধ্য হবে; সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। দৃশ্যকল্প-২ এ 'মানুষ হয় সৃষ্টির মুকুট' বলে রূপক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এই নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
    অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সদর্থক বা ইতিবাচকভাবে কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব হলে সেখানে কোনো নঞর্থক বা নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। দৃশ্যকল্প-৩ এ 'পাপ নয় পুণ্য' বলে সরাসরি নেতিবাচক শব্দের মাধ্যমে সংজ্ঞাদানের চেষ্টা করে তৃতীয় নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

    ২. প্রকাশের প্রকৃতি:
    দৃশ্যকল্প-২ এ রূপক বা আলংকারিক অর্থ প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে, যা সংজ্ঞার অর্থকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। অপরপক্ষে, দৃশ্যকল্প-৩ এ বিষয়টি কী তা না বুঝিয়ে বিষয়টি কী নয়—তা দিয়ে সংজ্ঞায়নের ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে।

    ৩. অনুপপত্তির ধরন:
    দৃশ্যকল্প-২ এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Metaphorical Definition)। অপরদিকে দৃশ্যকল্প-৩ এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে 'নঞর্থক বা নেতিবাচক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Negative Definition)।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ যথাক্রমে যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘনের ফলশ্রুতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন