বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১:জনাব রহিম তার নানার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পান। এজন্য তার নিকটতম আত্মীয়রা অসন্তুষ্ট হন। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের একটি অংশও গোপনে বিরোধিতা করে।দৃশ্য-২: জনাব করিম চেয়ারম্যান জনগণের কল্যাণে ইউনিয়নের উন্নতিকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের মতামত অনুসারে কাজ করেন। এজন্য প্রভাবশালীদের সাথেতিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ক)(1)
ইতিহাসে 'আলীনগর সন্ধি' কী?
- খ)(2)
'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলতে কী বোঝায়?'
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এর ঘটনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, দৃশ্য-২ এর জনাব করিমের মনোভাবই বক্সারের যুদ্ধ,অনিবার্য করে তোলে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৭৫৭ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংরেজ কর্নেল রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে যে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়, তা আলীনগর সন্ধি নামে পরিচিত।
- খ)
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় যে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়। এতে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিক করা হয় এবং তাদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
- গ)
দৃশ্য-১-এর ঘটনা নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর নাতি সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আরোহণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সাথে মিল রয়েছে।
জনাব রহিম নানার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পাওয়ায় আত্মীয়রা অসন্তুষ্ট হন এবং কর্মচারীদের একাংশও গোপনে বিরোধিতা করে। একইভাবে আলীবর্দী খানের উত্তরাধিকারী হিসেবে সিরাজকে নবাব মনোনীত করায় তাঁর খালা ঘসেটি বেগম ও আত্মীয় শওকত জং অসন্তুষ্ট হন। দরবারের কিছু কর্মকর্তা ও সেনাপতিও গোপনে তাঁর বিরোধিতা করে।
- ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি দৃশ্য-২-এর জনাব করিমের মনোভাব বক্সারের যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল; এটি নবাব মীর কাশিমের মনোভাবের সাথে মেলে।
১. স্বাধীন মনোভাব: করিম প্রভাবশালীদের চাপ উপেক্ষা করে নিজের মতো কাজ করেন; মীর কাশিমও ইংরেজদের হস্তক্ষেপ না মেনে স্বাধীনভাবে শাসন করতে চেয়েছিলেন।
২. জনকল্যাণমূলক সংস্কার: মীর কাশিম প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সংস্কার করেন এবং দস্তকের অপব্যবহার বন্ধ করতে সব বণিকের জন্য শুল্ক তুলে দেন। এতে ইংরেজদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যের সুবিধা নষ্ট হয়।
৩. সংঘর্ষের পরিণতি: ইংরেজদের সাথে এই দ্বন্দ্ব যুদ্ধে গড়ায়। মীর কাশিম পরাজিত হয়ে অযোধ্যার নবাব ও সম্রাটের সাথে মিলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বক্সারের যুদ্ধে অংশ নেন।সুতরাং, স্বাধীনচেতা মনোভাব ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ইংরেজদের সাথে সৃষ্ট সংঘাতই বক্সারের যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও