ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. জাকিউল বন্ধন গ্রুপের একজন ব্যবস্থাপক। তিনি তার অধস্তনদের সবাইকে একই চোখে দেখেন। অধস্তনরাও তাকে শ্রদ্ধা করেন। ফলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রয়েছে। একদিন অধস্তনদের মধ্যে কাজ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দ্রুততার সাথে সমস্যা সমাধান করেন।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?
- খ)(2)
ব্যবস্থাপনা চক্র কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. জাকিউল ব্যবস্থাপনার কোন নীতি অনুসণ করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলেকে মি. জাকিউলকে কী আদর্শ ব্যবস্থাপক বলা যায়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন এফ. ডব্লিউ. টেলর (ফ্রেডরিক উইনস্লো টেলর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি চক্রাকারে একটির পর একটি সম্পাদিত হওয়াকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলে।
ব্যবস্থাপনা হলো লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কতকগুলো কার্যাবলির সমষ্টি। এই কাজগুলো সাধারণত পরিকল্পনা প্রণয়ন দিয়ে শুরু হয়ে সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। নিয়ন্ত্রণের পর আবার নতুন করে পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এভাবে ব্যবস্থাপনা কার্যাবলির অবিরাম ও চক্রাকার আবর্তনকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. জাকিউল ব্যবস্থাপনার ‘সাম্যের নীতি’ (Principle of Equity) অনুসরণ করেছেন।
ব্যবস্থাপনায় সাম্যের নীতি বলতে সকল অধস্তন কর্মচারীকে পক্ষপাতহীনভাবে সমান দৃষ্টিতে দেখা, তাদের প্রতি ন্যায়পরায়ণ আচরণ করা এবং কোনো ধরনের বৈষম্য না করাকে বোঝায়। এ নীতি অনুসরণের ফলে কর্মীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. জাকিউল বন্ধন গ্রুপের একজন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার সকল অধস্তনকে একই চোখে দেখেন। অধস্তনদের প্রতি তার এই নিরপেক্ষ ও সমতাপূর্ণ আচরণের কারণেই কর্মীরা তাকে শ্রদ্ধা করে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। সুতরাং, মি. জাকিউল ব্যবস্থাপনার সাম্যের নীতিটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে মি. জাকিউলকে একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক বলা যায়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের মধ্যে কিছু মৌলিক গুণাবলি থাকা আবশ্যক; যেমন—ন্যায়পরায়ণতা, নেতৃত্বসুলভ গুণ, মানবিক আচরণ, অভিজ্ঞতা, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। তিনি অধীনস্থদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করেন।
উদ্দীপকে মি. জাকিউলের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি তার অধস্তনদের প্রতি সমান আচরণ ও সাম্যের নীতি বজায় রেখেছেন। এর ফলে কর্মীদের মাঝে তার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ বজায় রয়েছে। তাছাড়া, একদিন অধস্তনদের মধ্যে কাজ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তিনি বিচলিত না হয়ে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান করেন। এটি একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের উপস্থিত বুদ্ধি, দূরদর্শিতা ও সংকট ব্যবস্থাপনার অনন্য প্রমাণ।
সুতরাং, সাম্যবোধ, কর্মীদের আস্থা অর্জনের সক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সংকট মোকাবিলার গুণের কারণে মি. জাকিউলকে নিঃসন্দেহে একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও