গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

মিসেস জোবেদা বেগমের বয়স ৪০ বছর। তিনি বাড়িতে তেমন কোনো কাজ করেন না। প্রতিদিন সকাল ১০টায় ঘুম থেকে উঠে ঘি বা তেলে ভাজা পরোটা, মাংস, ডিম ও ঘন দুধ দিয়ে চা খান। প্রায় সময় নিজ ঘরে শুয়ে টিভি দেখেন। রাতের খাবারটা দেরিতে খেয়েই শুয়ে পড়েন। অপরদিকে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সী তার স্বামী তাওহিদ সাহেবের ওজন ৮৫ কেজি। তিনি মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন। অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ায় ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে দেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

  1. ক)

    পরিপাক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কিশোরীর লৌহের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তাওহিদ সাহেব কোন রোগে আক্রান্ত—ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিসেস জোবেদা বেগমের প্রতিদিনের জীবন ব্যবস্থা তার সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে প্রক্রিয়ায় গৃহীত জটিল খাদ্য পরিপাক রসের সাহায্যে ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য রূপে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

  2. খ)

    কিশোরীর লৌহের চাহিদা বৃদ্ধি পায় প্রধানত দুটি কারণে।

    প্রথমত, এই বয়সে মাসিক (রজঃস্রাব) শুরু হয়, ফলে প্রতি মাসে রক্তের সাথে লৌহ বের হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, এ সময় শরীর দ্রুত বাড়ে এবং রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার জন্য বাড়তি হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে লৌহ লাগে। তাই এ বয়সে কলিজা, ডিম, সবুজ শাক ইত্যাদি লৌহসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।

  3. গ)

    তাওহিদ সাহেব ডায়াবেটিস (বহুমূত্র) রোগে আক্রান্ত।

    উদ্দীপকে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সী তাওহিদ সাহেবের ওজন ৮৫ কেজি, অর্থাৎ তিনি স্থূলকায় এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খান। রক্ত পরীক্ষায় তাঁর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে বা তা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়, একেই ডায়াবেটিস বলে। অতিরিক্ত ওজন ও অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণ এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

  4. ঘ)

    মিসেস জোবেদা বেগমের প্রতিদিনের জীবন ব্যবস্থা তাঁর সুস্থ জীবনযাপনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    ১. অনিয়মিত ঘুম ও জীবনযাত্রা: তিনি সকাল ১০টায় ঘুম থেকে ওঠেন, বাড়িতে তেমন কাজ করেন না এবং বেশির ভাগ সময় শুয়ে টিভি দেখেন। শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ক্যালরি খরচ হয় না।

    ২. অসুষম ও চর্বিযুক্ত খাবার: ঘি বা তেলে ভাজা পরোটা, মাংস, ডিম ও ঘন দুধের চা প্রচুর চর্বি ও ক্যালরিযুক্ত। কাজ কম হওয়ায় এই শক্তি চর্বি হয়ে জমে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

    ৩. রাতে দেরিতে খেয়েই ঘুম: এতে হজমে সমস্যা হয় এবং ওজন বাড়ে।

    সুতরাং, তাঁর জীবন ব্যবস্থা সুস্থ জীবনযাপনের অনুকূল নয়। তাঁকে সময়মতো ঘুম-জাগরণ, নিয়মিত হাঁটা বা গৃহস্থালি কাজ, কম তেল-চর্বি এবং শাকসবজি ও ফলসহ সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন