গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২০

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী রহিমা মাধ্যমিকে পড়ুয়া দিপা ও একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া রুবেলকে নিয়ে খুবই ব্যস্ত থাকেন। ছেলে বেশ মেধাবী বিধায় ডাক্তার বানাবে এ আশায় নবম শ্রেণি থেকেই বিজ্ঞান বিষয়ে পড়িয়ে আসছেন। বাবা ভাবেন এখন বিজ্ঞান শিখে কিছু হবে না। তিনি তাকে অন্য বিষয়ে পড়ার জোর তাগিদ দেন। এতে ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে মা ও বাবার মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। রুবেলের চাচা তার বাবাকে সন্তানের আগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেন।

  1. ক)

    বিকাশ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    শিশুরা কোন বয়সে যুক্তিপূর্ণ চিন্তা করতে শেখে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিমা বিকাশের কোন স্তরে রয়েছে তা উল্লেখ করে সে স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চাচার পরামর্শ রুবেলের ডাক্তার হওয়ার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিকাশ হলো জীবনব্যাপী ধারাবাহিক ও ক্রমিক পরিবর্তন, যার ফলে ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

  2. খ)

    শিশুরা সাধারণত বাল্যকালে, প্রায় ৭ থেকে ১১ বছর বয়সে যুক্তিপূর্ণ চিন্তা করতে শেখে। এ বয়সে তারা কারণ ও ফলের সম্পর্ক বুঝতে পারে এবং বাস্তব বস্তু ও ঘটনা নিয়ে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে পারে। তারা তুলনা, শ্রেণিবিন্যাস ও সমস্যা সমাধান করতে শেখে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা তাদের চিন্তাশক্তি বিকাশে সাহায্য করে।

  3. গ)

    ৩৫ বছর বয়সী রহিমা বিকাশের প্রাপ্তবয়স্ক স্তরে রয়েছেন। এ স্তরের বৈশিষ্ট্য:

    ১. শারীরিক: দৈহিক গঠন ও কর্মক্ষমতা পূর্ণতা পায় এবং স্বাস্থ্য সাধারণত ভালো থাকে।

    ২. মানসিক: চিন্তা পরিণত হয়; সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ে।

    ৩. পারিবারিক দায়িত্ব: সন্তান লালনপালন, তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা এবং সংসার পরিচালনার দায়িত্ব নেন। রহিমা দুই সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।

    ৪. সামাজিক ও আর্থিক: সমাজ ও পরিবারে দায়িত্ব পালন করেন, জীবিকা অর্জন করেন এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

  4. ঘ)

    চাচার পরামর্শ রুবেলের ডাক্তার হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, যদিও এটিই একমাত্র নির্ধারক নয়।

    ১. মানসিক সমর্থন: বাবা বিজ্ঞান পড়তে বাধা দেওয়ায় রুবেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বাবা আগ্রহের গুরুত্ব বুঝলে সে সমর্থন পাবে, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে এবং পড়ায় মনোযোগী হবে।

    ২. পারিবারিক সম্প্রীতি: বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব কমে পরিবেশ শান্ত হলে রুবেল নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

    ৩. আগ্রহের গুরুত্ব: পছন্দের বিষয়ে পড়লে শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও প্রচেষ্টা বাড়ে, যা ভালো ফলাফল ও লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। তবে ডাক্তার হতে রুবেলের নিজের পরিশ্রম, মেধা ও সঠিক পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

    সুতরাং, চাচার পরামর্শ রুবেলের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ সুগম করবে, তবে সাফল্য নির্ভর করবে তার নিজের প্রচেষ্টার ওপর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন