গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পুষ্টি কাকে বলে?
- খ)(2)
দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে খাদ্য উপাদানের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ '?' চিহ্নিত ভিটামিনের কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অভাবজনিত অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পুষ্টি হলো একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব খাদ্যবস্তু গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ ও আত্মীকরণের দ্বারা দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন, তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে সুস্থ থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে খাদ্য উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে প্রোটিন বা আমিষ দেহের কোষ ও কলার প্রধান উপাদান গঠন করে নতুন কোষ সৃষ্টি এবং দৈহিক বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এছাড়া খনিজ লবণ (যেমন— ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস) এবং ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁতের গঠন সুদৃঢ় করে। জল বা পানি কোষের আকার ঠিক রাখতে ও কোষ বিভাজনে সাহায্য করে। সুতরাং, সুষম খাদ্যের উপাদানগুলো একত্রে মানবদেহের সঠিক বৃদ্ধি ও গাঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর মধ্যে ভিটামিন 'ডি', 'ই', ও 'কে' উল্লেখ রয়েছে। চর্বিতে দ্রবণীয় অপর প্রধান ভিটামিনটি হলো ভিটামিন 'এ'। অতএব, '?' চিহ্নিত ভিটামিনটি হলো ভিটামিন 'এ'।
ভিটামিন 'এ'-এর প্রধান কাজসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা: চোখের রেটিনার রড কোষ গঠনে এবং মৃদু আলোতে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে ভিটামিন এ অপরিহার্য। এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
২. ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা: দেহের ত্বক ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গের এপিথেলিয়াল কলার আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি: শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি এবং হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠনে ভিটামিন এ অংশ নেয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত চিত্র দুটি প্রোটিন ও শক্তির ঘাটতিজনিত পুষ্টিহীনতা বা পিইএম (PEM - Protein-Energy Malnutrition) নির্দেশ করে। প্রথম চিত্রটি হলো কোয়াশিওরকর (প্রোটিনের অভাবজনিত পেট ফোলা, শোথযুক্ত অবস্থা) এবং দ্বিতীয় চিত্রটি হলো ম্যারাসমাস (প্রোটিন ও ক্যালরি উভয়ের অভাবে অস্থিচর্মসার বা কঙ্কালসার অবস্থা)।
এই অভাবজনিত অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রতিকার:
১. দ্রুত পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ: আক্রান্ত শিশুকে উচ্চ ক্যালরি ও পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ সহজপাচ্য খাবার (যেমন— দুধ, ডিম, খিচুড়ি, ডাল) অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াতে হবে।
২. জটিলতার চিকিৎসা: শিশুটি যদি ডিহাইড্রেশন বা ডায়রিয়ায় ভোগে তবে ওআরএস দিতে হবে এবং সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে।
৩. খনিজ ও ভিটামিন প্রদান: ভিটামিন এ, জিংক, আয়রন ও ফলিক এসিডের সম্পূরক সরবরাহ করে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হবে।প্রতিরোধের উপায়:
১. মায়ের দুধ নিশ্চিতকরণ: জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ (শালদুধসহ) প্রদান করতে হবে।
২. পরিপূরক খাবার প্রবর্তন: ৬ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর ও সুষম পারিবারিক খাবার (যেমন— চাল-ডাল-সবজি-তেল দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি) নিয়মিত খাওয়াতে হবে।
৩. স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সচেতনতা: মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর পুষ্টি এবং শিশুর সুষম খাদ্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
৪. পরিচ্ছন্নতা ও টিকাদান: সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শিশুকে ইপিআই কর্মসূচির টিকা দিতে হবে এবং ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।পরিশেষে, খাদ্যতালিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও সচেতনতার মাধ্যমেই এই মারাত্মক অপুষ্টির হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও