সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

মনির সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কিন্তু অবাক ব্যাপার! তিনি আয়কর ফাঁকি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথেও জড়িত। ফলে সমাজ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

  1. ক)

    কিশোর অপরাধ কী?

    (1)
  2. খ)

    সমাজ কি পরিবর্তনশীল? বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    মনির সাহেব কোন ধরনের অপরাধী?

    (3)
  4. ঘ)

    আয়কর ফাঁকি, চোরাচালান দেশের আর্থ-সামালিক উন্নয়নে কি কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে? তোমার মতামত যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের (সাধারণত ৭ থেকে ১৬ বা ১৮ বছর) কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বা কিশোর কর্তৃক সংঘটিত সমাজ ও রাষ্ট্রীয় আইনবিরোধী আচরণকে কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, সমাজ সর্বদাই পরিবর্তনশীল।

    সমাজ কোনো স্থির বা অনড় ব্যবস্থা নয়; এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল। সময়ের আবর্তনে মানুষের চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে। আদিম সমাজ থেকে শুরু করে শিকার ও খাদ্য সংগ্রহকারী সমাজ, কৃষি সমাজ, শিল্প সমাজ পেরিয়ে আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ গড়ে উঠেছে। মানুষের প্রয়োজন ও পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার ফলেই সমাজ প্রতিনিয়ত বিবর্তিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মনির সাহেব সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একজন 'ভদ্রবেশী অপরাধী' বা 'শ্বেতপদ্ম অপরাধী' (White-collar Criminal)।

    আমেরিকান অপরাধবিজ্ঞানী এডউইন সাদারল্যান্ড (Edwin H. Sutherland) ১৯৩৯ সালে প্রথম 'হোয়াইট কলার ক্রাইম' বা ভদ্রবেশী অপরাধের ধারণা দেন। সমাজের উচ্চবিত্ত, প্রভাবশালী এবং পেশাগতভাবে সম্মানিত ব্যক্তিরা যখন তাদের পেশা বা সামাজিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে গোপনে আইন লঙ্ঘন বা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তখন তাদের ভদ্রবেশী অপরাধী বলা হয়।

    উদ্দীপকে মনির সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত ও সমাজে সম্মানিত ব্যবসায়ী, যিনি নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে সমাজে ভালো সুনাম ধরে রেখেছেন। কিন্তু এই সম্মানজনক অবস্থানের অন্তরালে তিনি আয়কর ফাঁকি ও চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত। বাহ্যিক সম্মান এবং গোপনে আর্থ-সামাজিক অপরাধের এই রূপটি স্পষ্টভাবেই তাকে একজন ভদ্রবেশী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আয়কর ফাঁকি ও চোরাচালানের মতো অপরাধ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। নিচে যুক্তিসহ এ বিষয়ে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সরকারি রাজস্ব ক্ষতি: একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় জনগণের দেওয়া কর (Tax) এবং রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা আয়কর ফাঁকি দিলে সরকারের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অবকাঠামোগত ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ কমে যায়।

    ২. দেশীয় শিল্পের ক্ষতি: চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক না দিয়ে অবৈধ পণ্য বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় বৈধ শিল্প ও ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এর ফলে বৈধ দেশীয় শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে।

    ৩. কর্মসংস্থান হ্রাস ও বেকারত্ব বৃদ্ধি: চোরাচালান ও কর ফাঁকির কারণে নতুন শিল্প উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভাটা পড়ে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।

    ৪. কালো টাকার বিস্তার ও সামাজিক বৈষম্য: কর ফাঁকি এবং চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অর্থনীতিতে 'কালো টাকা' হিসেবে যুক্ত হয়। এর ফলে সমাজের মুষ্টিমেয় লোক অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয় এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে, যা সামাজিক সংঘাতের জন্ম দেয়।

    ৫. অপরাধের বিস্তার ও নৈতিক অবক্ষয়: চোরাচালানের সাথে অস্ত্র, মাদক ইত্যাদির অবৈধ ব্যবসা যুক্ত হয়ে সমাজকে অস্থির করে তোলে এবং যুবসমাজকে বিপথগামী করে।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত মনির সাহেবের আয়কর ফাঁকি ও চোরাচালান কেবল একক অপরাধ নয়, বরং তা জাতীয় অর্থনীতির ভিত দুর্বল করে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে চরমভাবে ব্যাহত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন