জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১০ সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে গোলআলুর কাণ্ড ও পাতা একটি বিশেষ ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অপর একটি ছত্রাক দ্বারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ছোট ছেলেমেয়েরা বেশি আক্রান্ত হয়।
- ক)(1)
লাইকেন কী?
- খ)(2)
ওয়াটার ব্লুম বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রোগটির পরজীবীর গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগটি থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাইকেন হলো একটি শৈবাল (Phycobiont) এবং একটি ছত্রাকের (Mycobiont) ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক মিথোজীবী (Symbiotic) সহাবস্থানের ফলে গঠিত একটি বিশেষ ধরনের থ্যালয়েড উদ্ভিদদেহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলাশয়ে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের (যেমন—নাইট্রেট, ফসফেট ইত্যাদি) উপস্থিতির কারণে সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা শৈবালের অস্বাভাবিক ও অত্যধিক বৃদ্ধি ঘটে পানির উপরিভাগে যে পুরু, সবুজ বা রঙিন স্তর বা ফেনা সৃষ্টি হয়, তাকে ওয়াটার ব্লুম (Water Bloom) বা অ্যালগাল ব্লুম বলে। এর ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, পানি দূষিত হয় এবং জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম রোগটি হলো গোলআলুর লেট ব্লাইট (Late blight) বা বিলম্বিত ধ্বসা রোগ। এ রোগের পরজীবী হলো ওমাইসিটিস শ্রেণির ছত্রাক Phytophthora infestans।
Phytophthora infestans-এর গঠন নিম্নরূপ:
১. মাইসেলিয়াম (Mycelium): এর দেহ সূক্ষ্ম, শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট সূত্রাকার মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত। এর হাইফিগুলো নলাকার, প্রস্থপ্রাচীরহীন (Aseptate) এবং বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত অর্থাৎ সিনোসাইটিক (Coenocytic)।
২. হস্টোরিয়াম (Haustorium): এরা অন্তঃকোষীয় পরজীবী হিসেবে পোষকদেহের কোষের ফাঁকে বৃদ্ধি পায় এবং কোষাভ্যন্তরে বিশেষ চোষক অঙ্গ বা হস্টোরিয়াম প্রবেশ করিয়ে পুষ্টি শোষণ করে।
৩. স্পোরাঞ্জিওফোর (Sporangiophore): অনুকূল পরিবেশে পোষক পাতার নিম্নত্বকের পত্ররন্ধ্র দিয়ে বিশেষ ধরনের শাখা বের হয়ে আসে, এদের স্পোরাঞ্জিওফোর বলে। এগুলো শাখান্বিত এবং পর্বযুক্ত।
৪. স্পোরাঞ্জিয়াম (Sporangium): স্পোরাঞ্জিওফোরের অগ্রভাগে লেবুর মতো দেখতে এককোষী, পাতলা প্রাচীরযুক্ত স্পোরাঞ্জিয়াম বা কনিডিয়াম উৎপন্ন হয়। এর অগ্রভাগে একটি সুস্পষ্ট প্যাপিলা থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ছোট ছেলেমেয়েদের আক্রান্তকারী দ্বিতীয় রোগটি হলো দাঁদ (Ringworm বা Tinea), যা প্রধানত Trichophyton ও Microsporum গণের ছত্রাকের সংক্রমণে ঘটে থাকে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক চর্মরোগ।
এ রোগ থেকে পরিত্রাণের প্রধান উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা রক্ষা: নিয়মিত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে শরীর ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অপরিহার্য। আক্রান্ত স্থান সবসময় শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে হবে, কারণ ঘাম ও ভেজা ত্বকে ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২. সংক্রমিত বস্তু পরিহার: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, গামছা, বিছানার চাদর, চিরুনি, টুপি বা জামাকাপড় অন্যদের ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে। এসব কাপড় গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত ধুতে হবে।
৩. সচেতনতা ও পৃথকীকরণ: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশুরা সহজেই পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। তাই আক্রান্ত শিশুকে রোগ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা বা সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম বা ক্রিম (যেমন—ক্লোট্রিমাজল, টারবিনাফিন ইত্যাদি) আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। সংক্রমণ তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
৫. পুষ্টিকর খাদ্য ও রোগ প্রতিরোধ: শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা প্রয়োজন।সুতরাং, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা গ্রহণ করাই এ রোগ থেকে পরিত্রাণের কার্যকর উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও