বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সম্প্রতি চিতলমারী গ্রামের অনেক উন্নতি হয়েছে- পাকা রাস্তা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ডিশ অ্যান্টেনা মাঝে মাঝে দুই-চারটি পাকা বাড়িও চোখে পড়ে। কিন্তু কৃষিনির্ভর মানুষের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। আগে যারা খেয়ে পরে বছরে দুবিঘা জমি কিনত, এখন বছর শেষে শূন্য। ঐ গ্রামের করিম মাস্টার বললেন, "উন্নতি হবে কেমন করে, এখন তো সবাই সাহেব। আহার, বিশ্রাম, আড্ডা, ভ্রমণ আর হিংসা-দলাদলি নিয়ে মানুষ এখন ব্যস্ত।"
- ক)(1)
পূর্বে পল্লীবাসিনীগণ কী দিয়ে কাপড় কাচতেন?
- খ)(2)
'সভ্যতা বিস্তারে সঙ্গে সঙ্গে দেশি শিল্পসমূহ ক্রমশ বিলুপ্ত হইয়াছে।"- "কীভাবে? বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিতলমারী গ্রাম 'চাষার দুক্ষু' রচনায় বর্ণিত কোন শহরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? তুলনার যৌক্তিকতা তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
"করিম মাস্টারের বক্তব্যে বঙ্গদেশীয় চাষার চিরদারিদ্র্যের কারণ নিহিত আছে"- উক্তিটি 'চাষার দুক্ষু' রচনা অনুসারে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্বে পল্লীবাসিনীগণ সজ্জিমাটি বা কলার বাসনা পোড়া ক্ষার দিয়ে কাপড় কাচতেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সভ্যতার অগ্রগতি এবং বিদেশি আধুনিক পণ্যের আগ্রাসনের ফলে শ্রমসাধ্য কুটির ও গ্রামীণ দেশি শিল্পগুলো টিকে থাকতে না পেরে ক্রমশ বিলুপ্ত হয়েছে।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেখিয়েছেন যে, আধুনিক সভ্যতার প্রভাবে মানুষ বিলাসিতার বশবর্তী হয়ে বিদেশি সূক্ষ্ম বস্ত্র, সাবান প্রভৃতি কলের তৈরি সস্তা ও চাকচিক্যময় সামগ্রী ব্যবহার শুরু করে। ফলে দেশীয় চরকার সুতা, খদ্দরের কাপড় ও সনাতন পদ্ধতির দেশীয় সামগ্রীর চাহিদা কমে যায় এবং এসব দেশি শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিতলমারী গ্রাম 'চাষার দুক্ষু' রচনায় বর্ণিত রংপুর শহরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা রংপুর শহরের বর্ণনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, সেখানে বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তাঘাট, মোটরগাড়ি ইত্যাদি সবই হয়েছে, অর্থাৎ শহরের দৃশ্যত বাহ্যিক চোখধাঁধানো উন্নতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু সমাজের মূল চালিকাশক্তি দরিদ্র কৃষক বা সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি; তাদের অবস্থা বরং আগের মতোই অনাহার ও দারিদ্র্যে জর্জরিত রয়েছে।
উদ্দীপকের চিতলমারী গ্রামেও অনুরূপ চিত্র দেখা যায়—পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, ডিশ অ্যান্টেনা এবং পাকা বাড়ি নির্মাণের মতো আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ঠিকই, কিন্তু কৃষিনির্ভর মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে। বাহ্যিক উন্নতির চাকচিক্যের বিপরীতে তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশার এই বাস্তবতার কারণেই চিতলমারী গ্রাম রংপুর শহরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
করিম মাস্টারের বক্তব্যে বঙ্গদেশীয় চাষার চিরদারিদ্র্যের যে দিকটি উঠে এসেছে, তা আংশিক সত্য হলেও 'চাষার দুক্ষু' রচনার আলোকে পুরোপুরি একক কারণ নয়; বরং ঔপনিবেশিক শোষণ ও দেশীয় কুটির শিল্পের ধ্বংসই এর মূল কারণ।
উদ্দীপকে করিম মাস্টার মনে করেন, মানুষের সাহেবিয়ানা বা ভণ্ড বিলাসিতা, অলসতা, আড্ডা, হিংসা ও দলাদলির কারণেই তাদের উন্নতি হচ্ছে না এবং চাষারা নিঃস্ব হচ্ছে।
তবে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চাষার চিরদারিদ্র্যের পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়া, বিদেশি পণ্যের আগ্রাসনে দেশি শিল্প (যেমন তাঁত ও সুতা কাটা) ধ্বংস হওয়া এবং বিজাতীয় শোষণ। পূর্বে অভাবের সময় কৃষক পরিবারের মহিলারা সুতা কেটে কাপড়ের ব্যবস্থা করতেন বা অর্থোপার্জন করতেন, যা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে লেখিকা এ কথাও নির্দেশ করেছেন যে, চাষারা পাট বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সঠিক উৎপাদনে না লাগিয়ে নানা অনাবশ্যক ব্যয় ও বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দিয়ে পরে নিঃস্ব হয়।
কাজেই, করিম মাস্টারের ইঙ্গিত করা কৃষকদের বিলাসিতা, কর্মবিমুখতা ও সামাজিক অনৈক্য তাদের দারিদ্র্যের অন্যতম অভ্যন্তরীণ কারণ হলেও, সামগ্রিক অর্থনৈতিক শোষণ ও দেশি শিল্পের বিনাশই ছিল চাষার চিরদারিদ্র্যের প্রধানতম কারণ। তাই মন্তব্যটি একপাক্ষিক হলেও চাষার অধঃপতনের মনস্তাত্ত্বিক দিকটি বিবেচনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও