গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দীপের বয়স ৭ বছর। সে কেউ ডাকলে সহজে সাড়া দেয় না। টিভির আওয়াজ বাড়িয়ে টিভি দেখে, জোরে কথা বলে। অপরদিকে তুবার বয়স ৪ বছর। সে অন্য শিশুদের সাথে খেলে না, খেলনা মুখে দেয় এবং গন্ধ শোঁকে এবং একই খেলনা দিয়ে অনেকক্ষণ খেলে। তাকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না।
- ক)(1)
প্রতিভাবান শিশু কাকে বলে?
- খ)(2)
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের দীপ কোন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তুবার মতো শিশুদের আচরণের উন্নয়নে বিশেষ যত্ন ও উপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি দরকার- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিশুর বুদ্ধিঙ্ক (IQ) ১৩০ বা তার বেশি এবং যারা সাধারণ শিশুর চেয়ে অত্যন্ত উন্নত মেধা ও সৃজনশীলতার অধিকারী, তাদের প্রতিভাবান শিশু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ শিশুদের মতো ধারণক্ষমতা, মনোযোগ ও বোধশক্তি থাকে না বলে তাদের শিক্ষাদানে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করতে হয়। এরা জটিল বা বিমূর্ত বিষয় সহজে বুঝতে পারে না। তাই বাস্তব উপকরণের ব্যবহার, ছবি প্রদর্শন, কাজের ছোট ছোট ধাপে বিভাজন এবং পুনরাবৃত্তিমূলক অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের উপযোগী করে শিক্ষা দিতে বিশেষ কৌশলের প্রয়োজন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দীপ 'শ্রবণ প্রতিবন্ধী' (Hearing Impaired) শিশু।
শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা অন্যের কথা বা শব্দ স্পষ্টভাবে শুনতে পায় না। ফলে কেউ ডাকলে তারা সহজে সাড়া দিতে পারে না, টেলিভিশনের শব্দের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে শোনে এবং নিজের কথার তীব্রতা বুঝতে না পেরে সাধারণত অনেক জোরে জোরে কথা বলে। উদ্দীপকের ৭ বছর বয়সী দীপের মধ্যে ঠিক এই বৈশিষ্ট্যগুলোই দেখা গেছে—সে ডাকলে সাড়া দেয় না, টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দেখে এবং জোরে কথা বলে। সুতরাং, দীপ একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তুবার আচরণে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism Spectrum Disorder) বা অটিস্টিক বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট প্রকাশ দেখা যাচ্ছে, যা দূরীকরণে বিশেষ যত্ন ও উপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি আবশ্যক।
তুবার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের অনীহা (অন্য শিশুদের সাথে না খেলা, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া), সংবেদনশীল অসংগতি (খেলনা মুখে দেওয়া ও গন্ধ শোঁকা) এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ (একই খেলনা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ খেলা) পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের শিশুরা সাধারণ পরিবেশ ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে শিখতে পারে না।
তুবার মতো শিশুদের আচরণ উন্নয়নের জন্য ভালোবাসা ও ধৈর্যশীল পারিবারিক পরিচর্যার পাশাপাশি বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির (যেমন—TEACCH পদ্ধতি, পিকচার এক্সচেঞ্জ কমিউনিকেশন সিস্টেম বা PECS) প্রয়োগ প্রয়োজন। এছাড়া আচরণগত থেরাপির (ABA) মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের ভাষার বিকাশ, দৃষ্টি সংযোগ ও সামাজিক মেলামেশা বাড়ানো সম্ভব। অতএব, উপযোগী শিক্ষা ও বিশেষ যত্নই তুবার মতো শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নিয়ে আসতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও