সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পার্থিবের নতুন বন্ধু 'ক' বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। এদের সমাজের প্রশাসনিক। কাঠামো আদাম, মৌজা, সার্কেল এরূপ স্তরে বিভক্ত। প্রত্যেক স্তরে। একজন' প্রধান ব্যক্তি কর্তৃত্ব করেন। রাজা ঐ সমাজের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। পার্থিবের অন্য আর একজন বন্ধু 'খ' অপর একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, যার বসবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহে। এদের সমাজ মায়ের কর্তৃত্বে পরিচালিত এবং তাদের ভাষার নাম মান্দি।
- ক)(1)
আদামের প্রধানকে কী বলা হয়?
- খ)(2)
এথনিক গোষ্ঠী বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত পার্থিবের বন্ধু 'ক'-এর জীবনধারা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পার্থিবের বন্ধু 'ক' ও 'খ'-এর জীবনধারার বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাকমা সমাজের আদাম বা পাড়ার প্রধানকে 'কার্বারি' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এথনিক গোষ্ঠী (Ethnic group) বা নৃগোষ্ঠী বলতে এমন একটি মানব সম্প্রদায়কে বোঝায়, যাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতিনীতি, বিশ্বাস এবং ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক উৎস অভিন্ন এবং যারা নিজেদের অন্য জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র মনে করে।
এদের সদস্যরা নিজেদের অভিন্ন পূর্বপুরুষের বংশধর বলে বিশ্বাস করে এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সামাজিক জীবন পরিচালনা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত পার্থিবের বন্ধু 'ক' চাকমা নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। নিচে তাদের জীবনধারা ব্যাখ্যা করা হলো:
চাকমারা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতাসূত্রীয়। পরিবারে পিতা বা পুরুষই হলেন সর্বেসর্বা এবং পরিবারের উত্তরাধিকার পিতার দিক থেকে সন্তানদের মধ্যে বর্তায়। তবে সম্পত্তিতে সাধারণত পুত্রসন্তানরাই উত্তরাধিকারী হয়।
চাকমাদের সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সুসংগঠিত। গ্রাম বা পাড়াকে বলা হয় 'আদাম', যার প্রধান হলেন 'কার্বারি'। কয়েকটি আদাম নিয়ে গঠিত হয় 'মৌজা', যার প্রধান 'হেডম্যান'। আবার কয়েকটি মৌজা নিয়ে গঠিত হয় 'সার্কেল', যার প্রধান হলেন 'চাকমা রাজা'। রাজা সমগ্র চাকমা সমাজের ঐক্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। চাকমাদের প্রধান জীবিকা হলো কৃষি এবং অতীতে তারা ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ধর্মীয় দিক থেকে তারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো 'বিজু'।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পার্থিবের বন্ধু 'ক' হলো চাকমা এবং বন্ধু 'খ' হলো গারো নৃগোষ্ঠীর সদস্য। এই দুই নৃগোষ্ঠীর জীবনধারার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সমাজ ও পারিবারিক কাঠামো: চাকমা সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক। তাদের পরিবারে পিতাই প্রধান এবং সম্পত্তি সাধারণত পিতার কাছ থেকে পুত্রদের মধ্যে বর্তায়। পক্ষান্তরে, গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে তাদের সমাজ মায়ের কর্তৃত্বে পরিচালিত। গারো পরিবারে মাতাই পরিবারের প্রধান এবং পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা (নকনা) পরিবারের যাবতীয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
২. ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক উৎস: চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে, যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে গারোদের ভাষার নাম 'আচিক' বা 'মান্দি' ভাষা (উদ্দীপকে বর্ণিত), যা তিব্বতি-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
৩. প্রশাসনিক কাঠামো: চাকমা সমাজে সুনির্দিষ্ট ত্রিস্তরবিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো (আদাম, মৌজা, সার্কেল এবং রাজা) বিদ্যমান। অন্যদিকে গারো সমাজে চাকমাদের মতো রাজাতান্ত্রিক বা এমন স্তরীভূত প্রশাসনিক কাঠামো নেই; সেখানে গ্রামপ্রধান বা 'নকমা' সামাজিক নেতৃত্ব দেন।
৪. ধর্ম ও উৎসব: চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাদের প্রধান উৎসব 'বিজু'। অন্যদিকে গারোরা পূর্বে প্রকৃতিপূজারি ('সাংসারেক') হলেও বর্তমানে তাদের সিংহভাগ খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত এবং তাদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো 'ওয়ানগালা'।
উপরিউক্ত তুলনামূলক আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট যে, চাকমা ও গারো জনগোষ্ঠীর পরিবার ব্যবস্থা, শাসনরীতি, ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও