পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের সংবিধান • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দাদশ শ্রেণির ক্লাসরুমে শিক্ষক 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, লিখিত, মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্বলিত এই সংবিধানটি বিশ্বের অন্যতম সংবিধান।
- ক)(1)
মুসলিম লীগ কত সালে গঠিত হয়?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনগণের অধিকার রক্ষায় উত্ত সংবিধানের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে তৎকালীন শাসক দল মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের একটি সমন্বিত রাজনৈতিক জোট। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল—এই চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা' এবং তাদের ঐতিহাসিক নির্বাচনী ইশতেহার ছিল '২১ দফা কর্মসূচি'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'গ' রাষ্ট্রের সংবিধান মূলত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি ইঙ্গিত করে। উদ্দীপকের বক্তব্যের আলোকে উক্ত সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. লিখিত সংবিধান: বাংলাদেশের সংবিধান একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল। এতে প্রস্তাবনা ছাড়াও ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।
২. মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্তি: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বিস্তারিতভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং তা আদালতে বলবৎযোগ্য।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৪. দুষ্পরিবর্তনীয়তা: এটি সহজেই পরিবর্তনযোগ্য নয়; সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।
৫. সংবিধানের প্রাধান্য: সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন; অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনগণের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধানের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়:
১. মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, সমসুযোগ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের ব্যবস্থা: সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ এবং ১০২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যদি কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। ফলে বিচার বিভাগ মৌলিক অধিকারের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
৩. ক্ষমতার ভারসাম্য ও আইনের শাসন: সংবিধান আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারী হয়ে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বাস্তবায়ন: দ্বিতীয় ভাগে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারসমূহকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রকে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধ্য রাখা হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা ও সাংবিধানিক সুরক্ষার মাধ্যমে এই সংবিধান জনগণের সার্বিক অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও