হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অভীক বাবু জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গিয়েছিল। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে। যুদ্ধ শেষে তিন মাস পর বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু যুদ্ধের সময় তার এক হাত কাটা যায়। এতে তার কোনো কষ্ট হয়নি। কারণ দেশ ও দেশের মানুষ আজ শত্রুমুক্ত স্বাধীন দেশ হিসেবে মানচিত্রে স্থান পেয়েছে। অপরদিকে, রিদম নৌকায় নদী পার হচ্ছিল। এমন সময় একটি শিশু মায়ের কোল থেকে নদীতে পড়ে যায়। রিদম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুটি উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। এতে শিশুটির মা খুশি হয় এবং রিদমকে আশীর্বাদ করে।

  1. ক)

    'অযাচক বৃত্তি' কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ কেন অন্য জীব থেকে আলাদা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের সাথে অভীক বাবুর কার্যকলাপের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রিদমের কর্মকাণ্ডের শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে কতটুকু তাৎপর্যপূর্ণ? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কারও কাছে কিছু না চেয়ে লোকে ইচ্ছা করে বা দয়া করে যা দেয়, তা দিয়েই জীবন যাপন করার বৃত্তিকে অযাচক বৃত্তি বলে।

  2. খ)

    ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, ভয়, হিংসা ও লোভের মতো সহজাত প্রবৃত্তি পশু-পাখির মধ্যেও আছে, তাই শুধু এগুলো দিয়ে মানুষ আলাদা হয় না। মানুষ অন্য জীব থেকে আলাদা মানবতা নামক বিশেষ গুণের জন্য। মানবতা মানে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। এই গুণই মানুষকে শ্রেষ্ঠ করেছে।

  3. গ)

    অভীক বাবুর কার্যকলাপের সাথে পাঠ্যপুস্তকের তরণীসেন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।

    তরণীসেন রাবণের ভাই বিভীষণের পুত্র। তিনি দ্বাদশবর্ষীয় বালক হয়েও লঙ্কা রক্ষার জন্য রণক্ষেত্রে যান। তিনি রামনামের নামাবলি গায়ে জড়িয়ে ধনুর্বাণ হাতে ভয়ংকর যুদ্ধে অংশ নেন এবং রামের বাণে প্রাণ দেন। পাঠ্যবই এই উপাখ্যান থেকে শিক্ষা দেয়, স্বাধীনতা রক্ষা করতে যার যতটুকু শক্তি আছে তা প্রয়োগের সৎসাহস থাকা উচিত এবং দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে পিছপা হওয়া উচিত নয়।

    উদ্দীপকে অভীক বাবু জীবন বাজি রেখে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধে যান, শত্রুমুক্ত করেন এবং এক হাত হারিয়েও কষ্ট পান না। এই নির্ভীকতা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম তরণীসেনের সৎসাহসী চরিত্রের সাথে মিলে যায়।

    সুতরাং, অভীক বাবুর সাথে তরণীসেনের সৎসাহস ও আত্মত্যাগের মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রিদম নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে মানবতা ও সৎসাহস প্রকাশ পেয়েছে। এর শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধের নাম মানবতা। বিপন্নকে আশ্রয় দেওয়া ও ভয়ার্তকে অভয় দেওয়া মানবতারই রূপ। আবার নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও অন্যের মঙ্গলের জন্য সাহস দেখানোই সৎসাহস।

    ১. মানবিক মূল্যবোধ: রিদম অন্যের বিপদে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এগিয়ে গেছে। রাজা রন্তিবর্মা যেমন নিজে অনাহারে থেকেও ক্ষুধার্তকে খাবার দিয়েছিলেন, তেমনি রিদমের ত্যাগ মানবতার উদাহরণ। এতে সমাজে সহমর্মিতা ও সেবার মনোভাব তৈরি হয়।
    ২. সামাজিক নিরাপত্তা: সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজের যেকোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। রিদমের মতো মানুষ থাকলে সমাজে দুর্বল ও বিপন্নরা নিরাপদ বোধ করে।
    ৩. পারিবারিক আনন্দ: শিশুটিকে ফিরে পেয়ে মা খুশি হয়ে রিদমকে আশীর্বাদ করেছেন। এতে একটি পরিবার বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং দুই পরিবারের মধ্যে কৃতজ্ঞতা ও সম্পর্কের বন্ধন গড়ে ওঠে।
    ৪. অনুকরণীয় আদর্শ: জীবে দয়া মানবজাতির কল্যাণের পথ। রিদমের কাজ অন্যদেরও মানবিক ও সাহসী হতে অনুপ্রাণিত করে।

    সুতরাং, রিদমের কর্মকাণ্ডের শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি মানবতা, সাহস ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সুস্থ সমাজ গড়তে সাহায্য করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন