যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: একটি খামারের প্রতিটি গরু পরীক্ষা করে দেখা গেল যে, সব গরু হাইব্রিড জাতের। অতএব ঐ খামারের সকল গরু হাইব্রিড জাতের।
দৃশ্যকল্প-২: ভেড়া হয় চতুষ্পদী। ছাগল হয় চতুষ্পদী। বাঘ হয় চতুষ্পদী। হরিণ হয় চতুষ্পদী। অতএব, সকল প্রাণী হয় চতুষ্পদী।
- ক)(1)
আরোহ কত প্রকার?
- খ)(2)
অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ যে ধরনের আরোহের নির্দেশ পাওয়া যায় তার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ মিলের মতে আরোহ প্রধানত ২ প্রকার: (১) প্রকৃত আরোহ এবং (২) অপ্রকৃত আরোহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবৈজ্ঞানিক আরোহ কোনো কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি শুধুমাত্র অনুকূল বা অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গঠন করে। এতে বিরোধী কোনো দৃষ্টান্ত না পেয়ে সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় একটি বিরোধী দৃষ্টান্ত পেলেই সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে। কার্যকারণ সম্পর্কের নিশ্চয়তা না থাকায় অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (বা নিখুঁত আরোহ)-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
যে আরোহে কোনো বিশেষ শ্রেণির অন্তর্গত প্রতিটি একক দৃষ্টান্তকে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। এতে কোনো আরোহমূলক লম্ফ থাকে না।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি খামারের প্রতিটি গরু এককভাবে পরীক্ষা করে দেখা গেল যে সব গরু হাইব্রিড জাতের। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— 'ঐ খামারের সকল গরু হাইব্রিড জাতের'। এখানে নির্দিষ্ট খামারের গরুগুলোর কোনোটিই পর্যবেক্ষণের বাইরে ছিল না এবং প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করেই সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। অতএব, এটি স্পষ্টতই একটি পূর্ণাঙ্গ আরোহ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (বা ত্রুটিপূর্ণ আরোহের ইঙ্গিতবাহী অবৈজ্ঞানিক আরোহ)-এর নির্দেশ পাওয়া যায়। এখানে ভেড়া, ছাগল, বাঘ, হরিণ প্রভৃতি কিছু চতুষ্পদী প্রাণীকে প্রত্যক্ষ করে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, "সকল প্রাণী হয় চতুষ্পদী"।
অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন: অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তটি সবসময় একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়, যেখানে উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়।
২. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীলতা: অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর আস্থা রেখে সিদ্ধান্ত গঠন করে।
৩. কার্যকারণ সম্পর্কের অনুপস্থিতি: এই আরোহে ঘটনার পেছনের কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না; বরং অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা হয়।
৪. আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতি: জানা থেকে অজানায় যাওয়ার যে প্রক্রিয়া বা আরোহমূলক লম্ফ, তা অবৈজ্ঞানিক আরোহে বিদ্যমান থাকে। কিছু দৃষ্টান্তে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর সব দৃষ্টান্তে উপনীত হওয়া যায়।
৫. সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য রূপ: কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কৃত না হওয়ায় এবং যেকোনো সময় বিরোধী দৃষ্টান্ত পাওয়ার সুযোগ থাকায় এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য বা ক্ষেত্রবিশেষে ভ্রান্ত (যেমন এখানে মানুষ বা পাখি দ্বি-পদী হলেও সকল প্রাণীকে চতুষ্পদী বলা হয়েছে)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও