সাহিত্য পাঠ • অপরিচিতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

লিটন শীল আর চন্দনা একে অপরের ভালো বন্ধু। ছাত্রজীবন থেকে তাদের মাঝে বেশ সখ্য আর জানা-শোনা। উভয়ই উচ্চশিক্ষিত। চন্দনা এমএ পাস করে স্বল্প বেতনের একটা চাকরি করে। স্বল্প বেতনের জন্য মা-বাবাকে সাথে নিয়ে শহরতলীতে একটা পুরনো ভাড়া বাসায় বাসকরে। তার যাপিত জীবন আভিজাত্যের নয়, নিম্ন মধ্যবিত্তের। লিটন শীল সরকারি চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাবা বিক্রম শীলের কাছে চন্দনাকে বিয়ে করার কথা জানালে বাবা বিক্রমশীল মেয়েকে এবং মেয়ের পরিবারকে দেখতে চান। মেয়ের পারিবারিক অবস্থা দেখে ফিরে এসে বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বলেন, “মেয়ে দেখতে সুন্দর, তবে এ বিয়ে হবে না।” বাবার এরূপ মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেনি লিটন শীল। কারণ বাল্যকাল থেকেই সে তার বাবার কথার অবাধ্য হয়নি কখনো।

  1. ক)

    বিনুদাদা অনুপমের কেমন ভাই?

    (1)
  2. খ)

    “মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাঁহার কাছে গুরুতর।”- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উপরের উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? বিচার কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের বিক্রম শীল এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার মতো মানুষের হীনমানসিকতার কারণেই তৎকালীন সমাজে যৌতুক প্রথা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল।”-আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিনুদাদা অনুপমের পিসতুতো ভাই।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটির মাধ্যমে অনুপমের মামার অর্থলিপ্সা ও যৌতুকলোভী মনোভাবকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    অনুপমের অভিভাবক তার মামা অত্যন্ত ধনলিপ্সু ছিলেন। তিনি এমন একটি পরিবার থেকে অনুপমের বিয়ের সম্বন্ধ করতে চেয়েছিলেন যারা ধনী নয়, অথচ যাদের সমস্ত অর্থ নিংড়ে যৌতুক হিসেবে নেওয়া যাবে। অর্থাৎ মেয়ের গুণ বা যোগ্যতার চেয়ে মেয়ের বাবার অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং যৌতুক দেওয়ার ক্ষমতাই মামার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের অভিভাবকের সংকীর্ণ মানসিকতা এবং কন্যার পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রীর যোগ্যতার চেয়ে পাত্রীর পরিবারের অর্থবিত্ত ও যৌতুক পাওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতেন। পাত্রী যতই রূপবতী বা গুণবতী হোক না কেন, তাদের কাছে আর্থিক স্বার্থটাই ছিল মুখ্য। একইসাথে অনুপমের নিজের কোনো বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিল না; মামার কথার ওপর সে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, চন্দনা উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্ত হওয়ায় লিটন শীলের বাবা বিক্রম শীল বিয়েতে অসম্মতি জানান। অন্যদিকে লিটন শীলও বাবার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। অতএব, বিয়ের ক্ষেত্রে গুণ বা সম্পর্কের চেয়ে আর্থিক অবস্থাকে বড় করে দেখা এবং সন্তানের মেরুদণ্ডহীন নীরবতা—'অপরিচিতা' গল্পের এই দিকগুলোর সাথেই উদ্দীপকের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিক্রম শীল এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামার মতো মানুষের হীন মানসিকতাই যে সমাজে যৌতুক প্রথা ও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অসহায়ত্বের মূল কারণ ছিল, মন্তব্যটি যথার্থ।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা চরম অর্থলোভী একজন মানুষ। তিনি এমন পাত্রী খুঁজছিলেন যার পরিবার ধনী নয়, কিন্তু সর্বস্ব উজাড় করে যৌতুক দিতে বাধ্য হবে। বিয়ের আসরেও তিনি গয়না পরখ করার মতো অপমানজনক আচরণ করেন। তৎকালীন সমাজে পাত্রপক্ষের এমন যৌতুকলোভী ও হীন মানসিকতার কারণেই কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারগুলো চরম সামাজিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার হতো।

    উদ্দীপকের বিক্রম শীলও একইভাবে চন্দনার শিক্ষা, চরিত্র বা মেধার মূল্যায়ন না করে কেবল তাদের নিম্ন মধ্যবিত্ত পারিবারিক অবস্থানের কারণে বিয়ে ভেঙে দেন। তিনি একটি মেয়ের মানবিক মর্যাদা ও ভালোবাসাকে অগ্রাহ্য করে আর্থিক অবস্থানকেই প্রধান মানদণ্ড বানিয়েছেন। এমন মানসিকতা থেকেই সমাজে যৌতুকের লেনদেন ও পাত্রীর পরিবারের ওপর নিপীড়ন স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

    সুতরাং বলা যায়, পাত্রপক্ষের লোভ, কন্যাকে পণ্যের মতো বিবেচনা করা এবং অভিভাবকসুলভ কর্তৃত্বের হীন মানসিকতাই তৎকালীন সমাজে যৌতুক প্রথাকে এক ভয়াবহ ও অমানবিক ব্যাধিতে রূপ দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন