ইসলাম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

জমির উদ্দিনের একমাত্র সন্তান লাবিদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তিনি তার পিরের নামে একটি ছাগল জবাই করেন এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য ঐ পিরের কাছে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে জমির উদ্দিনের ব্যবসায়ী বস্তু আরিফের কাছ থেকে তার এক প্রতিবেশী সাঈদ পাঁচ হাজার টাকা দুই মাস পর ফেরত দেওয়ার শর্তে ঋণ নেয়। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দুই মাস পর ফেরত না দিলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি সমাধান করে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, 'আমাদের সবারই কথা ও কাজে মিল রাখা উচিত।

  1. ক)

    তাওহিদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    তকদিরের প্রতি বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    জমির উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে কী ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাঈদের চরিত্রে যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় ও তাঁর কোনো শরিক নেই—এই দৃঢ় বিশ্বাসকেই তাওহিদ বলে।

  2. খ)

    তকদির হলো আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত ভালো-মন্দ সবকিছুর পূর্বনির্ধারণ। তকদিরে বিশ্বাস না থাকলে ইমান পূর্ণ হয় না, কারণ এটি ইমানের অংশ। এ বিশ্বাস থাকলে মানুষ বিপদে ধৈর্য ধরে, সুখে কৃতজ্ঞ থাকে এবং ব্যর্থতায় হতাশ হয় না। এতে আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) বাড়ে এবং মনে প্রশান্তি আসে।

  3. গ)

    জমির উদ্দিন তার অসুস্থ সন্তান লাবিদের সুস্থতার জন্য পিরের নামে ছাগল জবাই করেছেন এবং পিরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। এতে শিরক ফুটে উঠেছে।

    ব্যাখ্যা:
    ১. শিরক অর্থ আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার করা।
    ২. জবাই ও প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত। আল্লাহ বলেন, "বলো, আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণ—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।" (সূরা আনআম: ১৬২)
    ৩. রোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল আল্লাহর। পিরের কাছে সাহায্য চাওয়া ও তার নামে জবাই করা সেই ক্ষমতায় অন্যকে শরিক করা, তাই এটি শিরক।

    শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ; তওবা ছাড়া এর ক্ষমা নেই।

  4. ঘ)

    সাঈদের চরিত্রে প্রকাশিত বিষয়: সাঈদ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ ফেরত দেয়নি। অর্থাৎ সে ওয়াদা খেলাফ (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ) করেছে, যা নিফাক বা মুনাফিকির একটি লক্ষণ।

    সভাপতির বক্তব্যের মূল্যায়ন: "কথা ও কাজে মিল রাখা উচিত"—এ বক্তব্য ইসলামের শিক্ষার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
    ১. আল্লাহ বলেন, "তোমরা যা করো না তা কেন বলো?" (সূরা সাফ: ২)।
    ২. হাদিসে ওয়াদা ভঙ্গ করা, মিথ্যা বলা ও আমানতে খিয়ানত করাকে মুনাফিকের আলামত বলা হয়েছে।
    ৩. কথা ও কাজে মিল থাকলে মানুষের মধ্যে আস্থা, সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় থাকে; আর অমিল থাকলে সাঈদ ও আরিফের মতো ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, সভাপতির বক্তব্য যথার্থ এবং প্রত্যেক মুমিনের তা মেনে চলা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন