জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
নিবেশিত ভাজক টিস্যু কী?
- খ)(2)
মূলের ভাস্কুলার বান্ডলকে এক্সার্ক বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক ‘F’ অনুসারে, উদ্ভিদ অংশের অভ্যন্তরীণ গঠনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ‘E’ এবং ‘F’ বহনকারী উদ্ভিদ অংশগুলোর মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ পার্থক্য রয়েছে—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি স্থায়ী টিস্যুর অন্তর্বর্তী স্থানে বা দুটি স্থায়ী টিস্যুর স্তরের মাঝে অবস্থিত ভাজক টিস্যুকে নিবেশিত বা ইন্টারক্যালারি (Intercalary) ভাজক টিস্যু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের জাইলেমে প্রোটোজাইলেম (অপেক্ষাকৃত সরু গহ্বরযুক্ত প্রথম গঠিত জাইলেম) পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম (অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত গহ্বরযুক্ত পরবর্তীতে গঠিত জাইলেম) কেন্দ্রের দিকে বিন্যস্ত থাকলে সেই অবস্থাকে এক্সার্ক (Exarch) বলে। মূলের অভ্যন্তরীণ গঠনে জাইলেম সবসময় এভাবে সজ্জিত থাকে বলেই মূলের ভাস্কুলার বান্ডলকে এক্সার্ক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'F' চিত্রটি হলো অরীয় (Radial) ভাস্কুলার বান্ডল, যা উদ্ভিদের মূলে (একবীজপত্রী বা দ্বিবীজপত্রী মূল) উপস্থিত থাকে।
পরীক্ষায় একবীজপত্রী মূলের (যেমন: ধান, গম বা ভুট্টার মূল) প্রস্থচ্ছেদের একটি পরিচ্ছন্ন চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে। চিত্রের প্রয়োজনীয় চিহ্নিত অংশগুলো হলো:
১. মূলরোম (Root hair)
২. এপিব্লেমা (Epiblema)
৩. কর্টেক্স (Cortex)
৪. অন্তঃত্বক (Endodermis)
৫. পেরিসাইকল (Pericycle)
৬. জাইলেম (মেটাজাইলেম কেন্দ্রে ও প্রোটোজাইলেম পরিধিতে)
৭. ফ্লোয়েম
৮. মজ্জা (Pith)।
(শিক্ষার্থীকে খাতায় পেন্সিল দিয়ে চিত্রটি এঁকে উল্লিখিত অংশগুলো ডান পাশে সুন্দরভাবে চিহ্নিত করতে হবে।) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'E' হলো সংযুক্ত ভাস্কুলার বান্ডল যা কাণ্ডে পাওয়া যায় এবং 'F' হলো অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল যা মূলে পাওয়া যায়। সুতরাং, 'E' বহনকারী অঙ্গ হলো কাণ্ড এবং 'F' বহনকারী অঙ্গ হলো মূল। এদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গঠনগত পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বহিত্বক বা ত্বক: কাণ্ডের বহিত্বককে এপিডার্মিস বলে, যাতে কিউটিকল ও বহুকোষী রোম বিদ্যমান। অন্যদিকে মূলের বহিত্বককে এপিব্লেমা বলে, যাতে কিউটিকল অনুপস্থিত এবং রোমগুলো এককোষী।
২. হাইপোডার্মিস বা অধস্ত্বক: কাণ্ডের ত্বকের নিচে সাধারণত কোলেনকাইমা বা স্ক্লেরেনকাইমা নির্মিত হাইপোডার্মিস উপস্থিত থাকে। কিন্তু মূলের ক্ষেত্রে কোনো হাইপোডার্মিস থাকে না।
৩. কর্টেক্স: কাণ্ডের কর্টেক্স সাধারণত তুলনামূলকভাবে সরু বা স্বল্প স্তরবিশিষ্ট হয়। মূলের কর্টেক্স অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত এবং বহুস্তরবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষে গঠিত।
৪. অন্তঃত্বক ও ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ: কাণ্ডে অন্তঃত্বক (শ্বেতসার আবরণী) অস্পষ্ট বা অনেক সময় অনুপস্থিত থাকতে পারে। কিন্তু মূলে স্পষ্ট অন্তঃত্বক থাকে এবং কোষপ্রাচীরে সুবেরিন ও লিগনিনযুক্ত ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ বিদ্যমান।
৫. ভাস্কুলার বান্ডলের ধরন: কাণ্ডে ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত (জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে) এবং সমপার্শ্বীয় বা সমদ্বিপার্শ্বীয়। মূলে ভাস্কুলার বান্ডল অরীয়, অর্থাৎ জাইলেম ও ফ্লোয়েম ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকে।
৬. জাইলেমের বিন্যাস: কাণ্ডের জাইলেম এন্ডার্ক (প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধির দিকে)। কিন্তু মূলের জাইলেম এক্সার্ক (প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে)।
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে কাণ্ড ('E') এবং মূলের ('F') অভ্যন্তরীণ গঠনে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও