পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ক' অথঞ্চলের জনগণ বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী। একই ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে এবং অভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতি লালন করে। উক্ত অঞ্চলের স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল ধর্ম ও বর্ণের জনগণ অংশগ্রহণ করে পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্তি লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের পরও সকল শ্রেণির জনগণ দেশগড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে।
- ক)(1)
অধিকার কী?
- খ)(2)
ক্ষমতার ভারসাম্য নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জনগণ বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী হলেও কোন বিষয়টি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জাতি গঠনে উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলোই শুধু যথেষ্ট নয়- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এমন কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষমতার ভারসাম্য নীতি বলতে বোঝায় সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে এমনভাবে ক্ষমতার বণ্টন ও সমন্বয় সাধন করা, যাতে কোনো একটি বিভাগ একক ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হয়ে অন্য বিভাগের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। এ নীতি অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করলেও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির (Checks and Balances) মাধ্যমে ভারসাম্যাবস্থা রক্ষা পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জনগণ বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী হলেও অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের চেতনা তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
জাতীয়তা গঠনে একাধিক উপাদানের ভূমিকা থাকে। এর মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্য জনসমষ্টির মধ্যে গভীর আত্মিক মেলবন্ধন তৈরি করে। যখন কোনো অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী লোক বাস করেও একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে, তখন তাদের মধ্যে ধর্মকে ছাপিয়ে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য প্রধান হয়ে ওঠে। সাথে সাথে অভিন্ন রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা তাদের সংহত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' অঞ্চলের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভাষা এক এবং তারা অভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতি লালন করে। এই অভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি তাদের মধ্যে গভীর ভাববিনিময় ও মানসিক নৈকট্য নিশ্চিত করে। এর ফলেই স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা সকলে একসাথে অংশ নিয়ে পরাধীনতা থেকে মুক্তি লাভ করে। সুতরাং, ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্যই এখানে ধর্মভেদকে অতিক্রম করে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি গঠনে কেবল ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মতো উপাদানগুলোই যথেষ্ট নয়; বরং এর সাথে মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, ভৌগোলিক সান্নিধ্য এবং অর্থনৈতিক সমতার মতো আরো কিছু উপাদান অত্যন্ত জরুরি—মন্তব্যটি যথার্থ।
একটি সফল ও টেকসই জাতি গঠনে বহুবিধ উপাদানের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকে ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং অভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামের (স্বাধীনতা যুদ্ধ) উল্লেখ রয়েছে। এগুলো জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির শক্তিশালী ভিত্তি হলেও একটি কার্যকর জাতি হিসেবে টিকে থাকতে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আবশ্যিক।
প্রথমত, রাজনৈতিক সচেতনতা ও একটি সুস্পষ্ট রাষ্ট্রকাঠামো বা সার্বভৌম রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়া কোনো জনসমাজ পূর্ণাঙ্গ জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারে না। দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক সান্নিধ্য বা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংহতিকে দৃঢ় করে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার জাতি গঠনের দীর্ঘমেয়াদি শর্ত; সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজ করলে ভাষাগত বা সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। সর্বোপরি, নাগরিকদের পারস্পরিক সহনশীলতা ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য অপরিহার্য।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানগুলো জাতি গঠনের অপরিহার্য ভিত্তি স্থাপন করলেও একটি পূর্ণাঙ্গ, সংহত ও স্থায়ী জাতি গঠনের জন্য ভৌগোলিক ঐক্য, অর্থনৈতিক সাম্য ও সার্বিক রাজনৈতিক চেতনার মতো অন্যান্য উপাদানগুলোর সক্রিয় উপস্থিতিও আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও