পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ব‍্যাপক পদচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমানে নারীরা রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। তারা এক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। নারীরা সরাসরি সাধারণ আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করছে। নারী শিক্ষার হারও অনেক বেশি, ফলাফলেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। হয়ত এ ইতিবাচক দিকটি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

  1. ক)

    স্থানীয় সরকার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নারীর ক্ষমতায়ন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথমাংশে নারীর কোন ধরনের ক্ষমতায়নের প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ওই এলাকার প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার ব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার বলে।

  2. খ)

    নারীর ক্ষমতায়ন বলতে বোঝায় নারীকে এমনভাবে সক্ষম করে তোলা, যাতে সে নিজের জীবন ও সম্পদ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ও সুযোগ পায়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষা এ ক্ষমতায়নের প্রধান ভিত্তি।

  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথমাংশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতি মূলত ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের কথাও আছে।

    ১. নারীরা সরাসরি সাধারণ আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করছে। এটি রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
    ২. নারীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দক্ষতা দেখাচ্ছে, যা প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।
    ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের পদচারণা তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রমাণ।

  4. ঘ)

    শেষোক্ত বক্তব্যে নারী শিক্ষার উচ্চ হার ও মেয়েদের ভালো ফলকে দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর বলা হয়েছে। এর তাৎপর্য:

    ১. দক্ষ মানবসম্পদ: শিক্ষিত নারীরা দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অর্থনীতিতে অবদান রাখে এবং জাতীয় আয় বাড়ায়।
    ২. পরিবার ও শিশুর স্বাস্থ্য: শিক্ষিত মা সন্তানের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বেশি যত্নবান হয় এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতন থাকে।
    ৩. কুসংস্কার ও বাল্যবিবাহ হ্রাস: নারী শিক্ষিত হলে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যা কমে।
    ৪. নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ: শিক্ষিত নারী রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রেখে সমাজকে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক করে।

    সুতরাং, নারীর শিক্ষা ও অগ্রগতি দেশ ও জাতির উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন