কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে বর্তমানে ঔষধি গুণসম্পন্ন একটি ছত্রাকের চাষ শুরু হয়েছে। এটি সবজি হিসেবে ভক্ষণযোগ্য যা দেখতে অনেকটা ব্যাঙের ছাতার ন্যায়। কিছু অনুকূল পরিবেশ বজায় রেখে এটি ঘরের মধ্যে সহজেই চাষ করা যায়। ছত্রাকটি ব্যাপক পরিসরে চাষ করলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

  1. ক)

    এ্যাজোলা কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃত্রিম প্রজননের সুবিধা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছত্রাকটি চাষের অনুকূল পরিবেশ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ছত্রাকটি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এ্যাজোলা (Azolla) হলো পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র আকারের এক ধরনের ফার্নজাতীয় জলজ উদ্ভিদ, যার পাতার গহ্বরে নীলাভ-সবুজ শৈবাল মিথোজীবী হিসেবে বাস করে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃত্রিম প্রজনন হলো উৎকৃষ্ট জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে কৃত্রিম উপায়ে গরম হওয়া গাভীর জননতন্ত্রে স্থাপন করার পদ্ধতি। এর প্রধান সুবিধাসমূহ হলো: এর মাধ্যমে একটি উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু দিয়ে হাজার হাজার গাভীকে প্রজনন করিয়ে দুধ ও মাংস উৎপাদন বহুলাংশে বাড়ানো যায়। এছাড়া প্রজননবাহিত রোগব্যাধি ছড়ানো রোধ করা সম্ভব হয় এবং দুর্বল বা দূরবর্তী অঞ্চলের গাভীকে সহজেই উন্নত গুণসম্পন্ন বাছুর জন্মদানে ব্যবহার করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ভক্ষণযোগ্য ও ঔষধি গুণসম্পন্ন ছত্রাকটি হলো মাশরুম। মাশরুম চাষের অনুকূল পরিবেশ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. তাপমাত্রা: মাশরুমের জাতভেদে তাপমাত্রার কিছুটা ভিন্নতা থাকে। বাংলাদেশে বহুল চাষকৃত অয়েস্টার মাশরুমের জন্য ২০° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে অনুকূল।
    ২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা: চাষ ঘরে আর্দ্রতা ৭০% থেকে ৮৫% হওয়া আবশ্যক। আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য দিনে ২-৩ বার স্প্রেয়ার দিয়ে ঘরে পানি ছিটাতে হয়।
    ৩. বায়ু চলাচল ও আলো: মাশরুম ঘরে মৃদু আলো ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে সরাসরি সূর্যের আলো মাশরুমের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ক্ষতিকর গ্যাস যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড যেন জমে না থাকে, সেজন্য ঘরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
    ৪. পরিচ্ছন্নতা: মাশরুম চাষের ঘর ও পরিবেশ সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত, ধূলিমুক্ত এবং স্যাঁতসেঁতে কিন্তু জলবদ্ধতাহীন হতে হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ছত্রাকটি হলো মাশরুম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে মাশরুম চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পুষ্টি নিরাপত্তা বিধান: মাশরুমে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে এবং এতে চর্বি ও শর্করার পরিমাণ কম। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য পথ্য হিসেবে কাজ করে জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানে অবদান রাখে।
    ২. বিকল্প কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণ: মাশরুম চাষে চাষযোগ্য কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না। ঘরের তাকের মধ্যে উল্লম্বভাবে (vertical farming) কম পুঁজিতে সহজেই চাষ করা যায়। ফলে গ্রামীণ ভূমিহীন কৃষক, শিক্ষিত বেকার যুবক এবং গৃহিণীদের আত্মকর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
    ৩. স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা: কাঠের গুঁড়া, খড় ইত্যাদি কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে স্পন প্যাকেট তৈরি করে অল্প দিনে মাশরুম উৎপাদন সম্ভব, যা দ্রুত বিনিয়োগের বিপরীতে ভালো মুনাফা এনে দেয়।
    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: শুকনা বা প্রক্রিয়াজাতকৃত মাশরুম বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

    পরিশেষে বলা যায়, অল্প জায়গায় ঘরে বসে চাষযোগ্য এবং উচ্চ পুষ্টিমান ও বাজারমূল্যসম্পন্ন হওয়ায় মাশরুম চাষ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন