বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
বিজ্ঞান প্রশ্ন
রহমান স্যার ক্লাসে রক্তসংবহনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, আমাদের দেহে বুকের মাঝখানে একটু বামদিকে একটি পাম্পের মতো অঙ্গ রয়েছে যা সমস্ত দেহে রক্ত সঞ্চালন করে। তিনি আারও বললেন, কোনো কোনো রক্তবাহিকা পাম্পের মতো অঙ্গ থেকে সমস্ত দেহে, আবার কোনো কোনো রক্তবাহিকা সমস্ত দেহ হতে উক্ত অঙ্গে রক্ত পরিবহন করে।
- ক)(1)
লিউকেমিয়া কাকে বলে?
- খ)(2)
ডায়াবেটিস রোগে কেন ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়?
- গ)(3)
পাম্পের মতো অঙ্গটির গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে আলোচিত রক্তবাহিকাগুলোর মধ্যে ভিন্নতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অস্থিমজ্জায় শ্বেত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট রক্তের ক্যান্সারকে লিউকেমিয়া (Leukemia) বলে।
- খ)
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ইনসুলিন নামক হরমোন, যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়। ডায়াবেটিস রোগীর দেহে ইনসুলিন তৈরি হয় না বা পর্যাপ্ত তৈরি হয় না। ফলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। বাইরে থেকে ইনসুলিন দিলে রক্তের গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে আসে।
- গ)
উদ্দীপকের পাম্পের মতো অঙ্গটি হৃৎপিণ্ড। এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো।
১. হৃৎপিণ্ড বুকের মাঝখানে একটু বাম দিকে অবস্থিত একটি পেশিবহুল অঙ্গ। এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক দ্বিস্তরী পর্দা দিয়ে আবৃত।
২. এর ভেতরে মোট চারটি প্রকোষ্ঠ আছে। ওপরের দুটি আলিন্দ (ডান ও বাম) এবং নিচের দুটি নিলয় (ডান ও বাম)।
৩. ডান আলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ত্রিপত্র কপাটিকা এবং বাম আলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে দ্বিপত্র কপাটিকা আছে। এগুলো রক্তের বিপরীত প্রবাহ রোধ করে।
৪. নিলয়ের পেশি আলিন্দের চেয়ে পুরু এবং বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, কারণ এটি সমস্ত দেহে রক্ত পাঠায়। - ঘ)
উদ্দীপকে আলোচিত রক্তবাহিকা দুই ধরনের। যে রক্তবাহিকা হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে রক্ত নিয়ে যায় তা ধমনি (Artery) এবং যেটি দেহ থেকে হৃৎপিণ্ডে রক্ত ফিরিয়ে আনে তা শিরা (Vein)। এ দুটির মধ্যে ভিন্নতা নিচে দেওয়া হলো।
১. রক্ত প্রবাহের দিক: ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে নেয়। শিরা বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে আনে।
২. রক্তের ধরন: ফুসফুসীয় ধমনি ছাড়া সব ধমনিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত থাকে। ফুসফুসীয় শিরা ছাড়া সব শিরায় কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত থাকে।
৩. প্রাচীর: ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক, কারণ এতে রক্ত উচ্চ চাপে প্রবাহিত হয়। শিরার প্রাচীর পাতলা।
৪. কপাটিকা ও নাড়ির স্পন্দন: ধমনিতে কপাটিকা থাকে না এবং এতে নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা যায়। শিরায় কপাটিকা থাকে এবং স্পন্দন অনুভব করা যায় না।সুতরাং, কাজ ও গঠনগত দিক থেকে ধমনি ও শিরা ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও