পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
"৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনটি ছিল উপমহাদেশের দৃশ্যপট পরিবর্তনকারী একটি আইন।
- ক)(1)
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় কত সালে?
- খ)(2)
১৯১৯ সালের আইনসভাকে কেন সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন আইনসভা বলা হয়?
- গ)(3)
ইঙ্গিতকৃত আইনের মূল বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
ঐ আইনের তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে গঠিত আইনসভাকে সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন বলা হয় কারণ আইনসভার সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবের ওপর ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল বা ভাইসরয়ের চূড়ান্ত ভেটো ক্ষমতা ছিল। গভর্নর জেনারেল আইনসভা কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত যে কোনো বিলকে নিজ ক্ষমতাবলে আইনে পরিণত করতে পারতেন এবং অর্ডিন্যান্স জারি করে আইনসভা এড়িয়ে চলতে পারতেন। ফলে জনপ্রতিনিধিদের কোনো বাস্তব ও সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রণীত ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এ আইনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
১. দুটি স্বাধীন ডোমি নিয়ন প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ডোমি নিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
২. গভর্নর জেনারেলের পদ: উভয় ডোমি নিয়নের জন্য পৃথক গভর্নর জেনারেল নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়, যিনি সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. গণপরিষদের সার্বভৌম ক্ষমতা: ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের গণপরিষদকে সংবিধান প্রণয়ন ও নিজ নিজ দেশের জন্য সার্বভৌম আইন রচনার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
৪. ভারত সচিব ও ব্রিটিশ রাজের খেতাব বিলোপ: ব্রিটিশ সরকারের ভারত সচিব পদের বিলুপ্তি ঘটে এবং ব্রিটিশ রাজের উপাধি থেকে 'ভারত সম্রাট' পদবি বাদ দেওয়া হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য অপরিসীম।
প্রথমত, এ আইনের মাধ্যমে প্রায় দুইশত বছরের শোষক ও ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের চিরতরে অবসান ঘটে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়। দ্বিতীয়ত, এটি উপমহাদেশের মানচিত্রে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। তৃতীয়ত, দেশীয় রাজ্যগুলোকে যে কোনো ডোমি নিয়নে যোগ দেওয়ার বা স্বাধীন থাকার সুযোগ দিয়ে এক জটিল ভৌগোলিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যার ফলে কাশ্মীর সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সূচনা হয়। সর্বোপরি, এ আইনটি ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক উপমহাদেশে গৃহীত শেষ সাংবিধানিক পদক্ষেপ, যা উপমহাদেশের সামগ্রিক দৃশ্যপটকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছিল।
সুতরাং, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি ছিল উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক চূড়ান্ত ও মোড় পরিবর্তনকারী দলিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও