ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
শরিফ স্টাইল লি. একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১,০০০ কর্মী কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মনে করেন কর্তৃপক্ষের বেশি সহানুভূতিশীলতার ফলে কর্মীরা অলস হয়ে পড়েছে এবং কর্মীরা কাজ এড়িয়ে চলায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা কমে গিয়েছে। তাই তিনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কর্মীদের থেকে কাজ আদায় করতে চান। কোনো পরিকল্পনা তৈরিতে কর্মীদের অংশ নিতে সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
- ক)(1)
নেতা কাকে বলে?
- খ)(2)
পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন বিচারে শরিফ স্টাইল লি.-এ কোন ধরনের নেতৃত্ব বিদ্যমান আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যিনি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দলের সদস্যদের আচরণকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করেন, তাঁকে নেতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে নির্দেশনা পদ্ধতিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো নির্দেশ জারির পূর্বে অধস্তনদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে মতামত গ্রহণ করেন, তাকে পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলে।
এ পদ্ধতিতে কর্মীদের অনুভূতি ও মতামতের মূল্যায়ন হয়, ফলে নির্দেশ বাস্তবায়নে অধস্তনরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্বুদ্ধ হয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন বিচারে শরিফ স্টাইল লি.-এ শুরুতে 'পিতৃসুলভ নেতৃত্ব' এবং পরবর্তীতে 'স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব' প্রয়োগের চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে বর্তমানে বা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মূলত 'স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব' প্রকাশ পেয়েছে।
যে নেতৃত্বে নেতা কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিজের কাছে কুক্ষিগত রাখেন, কর্মীদের মতামত গ্রহণ করেন না এবং ভয়ভীতি ও শাস্তির মাধ্যমে কাজ আদায় করতে চান, তাকে স্বৈরতান্ত্রিক বা কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্ব বলে।
উদ্দীপকে ব্যবস্থাপক পূর্বে সহানুভূতিশীল আচরণ করতেন যা পিতৃসুলভ নেতৃত্বের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু এতে কর্মীরা অলস হয়ে পড়ায় ব্যবস্থাপক পরবর্তীতে পরিকল্পনা তৈরিতে কর্মীদের কোনো সুযোগ না দেওয়ার এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ আদায় করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ধরনের আচরণ স্পষ্টতই স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের পরিচায়ক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরিফ স্টাইল লি.-এর ব্যবস্থাপক কর্তৃক পরবর্তীতে গৃহীত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামগ্রিকভাবে যৌক্তিক নয়।
উদ্দীপকে কর্মীরা কাজ এড়িয়ে চলার কারণে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণের দাবি রাখে। এ ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা আনা ও কাজের তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে কর্মীদের পরিকল্পনার অংশ না করে কেবল শাস্তি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদনশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।
স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে কিছুটা কাজ আদায় করতে পারলেও তা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ, কাজে অনীহা ও কর্মী ঘূর্ণায়মানতা বাড়িয়ে দেবে। প্রায় ১,০০০ কর্মীর একটি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মতামত অগ্রাহ্য করলে তাদের সৃজনশীলতা নষ্ট হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ প্রতিকূল হবে। বরং ইতিবাচক প্রেষণা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত কাজের পরিবেশ এবং অংশীদারিত্বমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাই অধিক কার্যকর সমাধান হতো।
সুতরাং, একপেশে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কর্মীদের মতামত গ্রহণের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করার পরবর্তী পদক্ষেপটি মোটেও দীর্ঘমেয়াদে যৌক্তিক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও