অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১২ সালে মি. X বাসা ভাড়া নিতে গেলে বাসার মালিক নিম্নোক্ত ভাড়া ধার্য করেন। বাসা ব্যবহারের জন্য ২,০০০ টাকা, ঝুঁকির জন্য ১,০০০ টাকা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১,০০০ টাকা ও অন্যান্য বাবদ আরও ২,০০০ টাকা দিতে হবে। ২০১৪ সালের বাসাটির পাশে একং কারখানা স্থাপন হলে মালিক মি. x কে বাসা ব্যবহারের জন্য ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি করতে বলেন।
- ক)(1)
অনুপার্জিত আয় কী?
- খ)(2)
ভূমির যোগান সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে মোট খাজনা ও অর্থনৈতিক খাজনা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোক নিম খাজনা ও এবং মোট খাজনার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের কোনো উপাদানের মালিক কোনো রকম প্রচেষ্টা বা ব্যয় ব্যতিরেকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আয় লাভ করে, তাকে অনুপার্জিত আয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমি প্রকৃতির দান, যার আদি ও অক্ষয় ক্ষমতা রয়েছে। মানুষের পক্ষে সামগ্রিকভাবে ভূমির পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো সম্ভব নয়। ভূমির দাম বাড়লেও এর যোগান বাড়ে না, আবার দাম কমলেও যোগান হ্রাস পায় না। অর্থাৎ, দামের পরিবর্তনের সাথে ভূমির সামগ্রিক যোগান স্থির বা অপরিবর্তিত থাকে বলে ভূমির যোগান সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক (যোগান স্থিতিস্থাপকতা শূন্য বা Es = 0)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী ২০১২ সালে বাসা ভাড়ার উপাদানসমূহ হলো:
বাসা ব্যবহারের জন্য = ২,০০০ টাকা
ঝুঁকির জন্য = ১,০০০ টাকা
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য = ১,০০০ টাকা
অন্যান্য বাবদ = ২,০০০ টাকামোট খাজনা (Contract Rent) হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াটিয়া কর্তৃক মালিককে প্রদত্ত মোট অর্থ।
অতএব, মোট খাজনা = বাসা ব্যবহারের জন্য প্রদত্ত অর্থ + ঝুঁকির অর্থ + রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় + অন্যান্য ব্যয়
= (২,০০০ + ১,০০০ + ১,০০০ + ২,০০০) টাকা
= ৬,০০০ টাকা।অর্থনৈতিক খাজনা (Economic Rent) হলো কেবল আদি ও প্রাকৃতিক শক্তি বা মূল উপাদান ব্যবহারের জন্য যে অর্থ দেওয়া হয়। এখানে ঝুঁকি, রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্যান্য উপাদান বাদে শুধুমাত্র বাসা ব্যবহারের জন্য প্রদত্ত অর্থই হলো অর্থনৈতিক খাজনা।
সুতরাং, অর্থনৈতিক খাজনা = ২,০০০ টাকা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মোট খাজনা ও নিম খাজনার ধারণার মধ্যকার সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়।
অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড মার্শালের মতে, মানুষের তৈরি মূলধনি দ্রব্য (যেমন- দালানকোঠা, কারখানা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) থেকে স্বল্পকালে যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আয় অর্জিত হয়, তাকে নিম খাজনা বা উপ-খাজনা (Quasi-rent) বলে। মানুষের তৈরি দ্রব্যের যোগান স্বল্পকালে বাড়ানো সম্ভব হয় না বলে সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘকালে যোগান বৃদ্ধি পেলে বিলুপ্ত হয়। নিম খাজনা = মোট আয় (বা ভাড়া) - মোট পরিবর্তনীয় ব্যয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৪ সালে বাসার পাশে একটি কারখানা স্থাপিত হওয়ায় বাসার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে বাসার মালিক স্বল্পকালে সুযোগ গ্রহণ করে বাসা ব্যবহারের জন্য আরও ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি করেন। অর্থাৎ বাসা ব্যবহারের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে (২,০০০ + ২,০০০) = ৪,০০০ টাকা হয়। এই বর্ধিত ২,০০০ টাকা হলো স্বল্পকালীন অতিরিক্ত চাহিদা থেকে উদ্ভূত নিম খাজনা।
মোট খাজনার একটি অংশ হলো এই নিম খাজনা। দীর্ঘকালে যদি ওই এলাকায় আরও নতুন বাসা তৈরি হয়, তবে যোগান বাড়ার ফলে এই বাড়তি ভাড়া থাকবে না। সুতরাং দেখা যায়, স্বল্পকালে মোট খাজনার মধ্যে স্বাভাবিক ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষের তৈরি মূলধনি সম্পত্তির সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট নিম খাজনা অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা মোট খাজনাকে বৃদ্ধি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও