হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
নীলাদের গ্রামের মন্দিরে আষাঢ় মাসে শুক্লা দ্বিতীয়াতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য চাকা লাগানো একটি গাড়ি ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়। গাড়িতে দড়ি বেঁধে ছোট বড় সকলে মিলে টেনে এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে নিয়ে যায়। গাড়িতে তিনটি দেবতার বিগ্রহ থাকে। অপরদিকে কবিতা মনের কষ্ট লাঘবের জন্য বিভিন্ন পবিত্র জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। পবিত্র স্থানগুলো মানুষের দ্বারা সৃষ্টি হয়নি। পাহাড়, পর্বত, বড় বড় গাছের নীচে, নদী কূলে এ পবিত্র স্থান গড়ে উঠেছে। এ সকল স্থান ঘুরলে মনে শান্তি আসে এবং পরিবারের মঙ্গল হয়।
- ক)(1)
ধর্মাচার কাকে বলে?
- খ)(2)
কোন ধর্মাচারের মাধ্যমে শিশুরা আনুষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়ার জগতে প্রবেশ করে?
- গ)(3)
নীলাদের গ্রামের মন্দিরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কবিতা যে পবিত্র স্থান দর্শনের ইঙ্গিত দিয়েছে তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে সকল আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে গড়ে তোলে, তা-ই ধর্মাচার।
- খ)
হাতেখড়ি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুরা আনুষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়ার জগতে প্রবেশ করে।
সরস্বতী পূজার দিন পুরোহিত বা পছন্দনীয় গুরুজনের কাছে কলাপাতায় খাগ দিয়ে অথবা পাথরে খড়িমাটি দিয়ে লিখে শিশু শিক্ষাজীবন শুরু করে। এটি শিশুর শিক্ষাজীবনে প্রবেশের একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মাচার।
- গ)
নীলাদের গ্রামের মন্দিরে আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি হলো রথযাত্রা। এটি হিন্দুদের একটি অন্যতম ধর্মানুষ্ঠান।
রথযাত্রার পরিচয় ও বর্ণনা: রথ হলো চাকাওয়ালা একটি যান। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়। ওড়িশ্যার পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠিত। রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এই তিন দেবতা অধিষ্ঠিত থাকেন। ভক্তগণ রশি দিয়ে রথ টেনে একটি নির্দিষ্ট মন্দির থেকে অন্য একটি মন্দিরে নিয়ে যায়। ঠিক নবম দিনে, অর্থাৎ একাদশীর দিন, সেখান থেকে টেনে আবার পূর্বের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। এ পর্বকে পুনর্যাত্রা বা উল্টোরথ বলে। এ উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মেলা হয়। বাংলাদেশে ঢাকার ধামরাইয়ের রথযাত্রা বিখ্যাত।
উদ্দীপকের সঙ্গে মিল: নীলাদের গ্রামে আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়ায় ফুলে সাজানো চাকা লাগানো গাড়ি (রথ) দড়ি দিয়ে টেনে এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে নেওয়া হয়। গাড়িতে তিন দেবতার বিগ্রহ থাকে। এসব বৈশিষ্ট্য রথযাত্রার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
অতএব, নীলাদের গ্রামের অনুষ্ঠানটি রথযাত্রা।
- ঘ)
উদ্দীপকে কবিতা মনের কষ্ট লাঘবের জন্য পাহাড়, পর্বত, বড় গাছের নিচে ও নদীর কূলে গড়ে ওঠা পবিত্র স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এগুলো তীর্থস্থান এবং তার এ ভ্রমণ তীর্থ দর্শন। হিন্দুধর্মে তীর্থ দর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম।
তীর্থস্থান ও তীর্থ দর্শনের ধারণা: স্বয়ং ভগবান কিংবা তাঁর অবতারের আবির্ভাবস্থান এবং দেবালয়ের স্থানকে পুণ্যস্থান বা তীর্থস্থান বলা হয়। বাংলাদেশের তীর্থস্থানের মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মহেশখালীর আদিনাথের মন্দির, গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি, সুনামগঞ্জের পণাতীর্থ ও শ্রীহট্টের যুগলটিলা উল্লেখযোগ্য। ধর্মপালনের মতো তীর্থ দর্শনও একটি পবিত্র কর্তব্য।
১. মানসিক শান্তি লাভ: তীর্থ দর্শনে মন পবিত্র হয়, অশান্ত মন শান্ত হয় এবং দুঃখ দূর হয়। উদ্দীপকে কবিতা মনের কষ্ট লাঘবের জন্যই এসব স্থানে যায় এবং সেখানে মনে শান্তি পায়, যা তীর্থ দর্শনের প্রধান ফল।
২. পুণ্য ও সদ্গতি: তীর্থস্থান ভ্রমণ একটি পুণ্য কর্ম। এতে পুণ্যলাভ হয় এবং পরকালে সদ্গতি হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এসব স্থান ঘুরলে পরিবারের মঙ্গল হয়। এই বিশ্বাস পুণ্যলাভের ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
৩. জ্ঞান ও উদারতা বৃদ্ধি: ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ভ্রমণে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে, মনের প্রসারতা বাড়ে, সংকীর্ণতা দূর হয় ও উদারতা আসে। মহাপুরুষদের জীবনাচরণের নিদর্শন দেখে মন ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হয়।
৪. সামাজিক মিলন: পণাতীর্থের মতো স্থানে বারুণী স্নান উপলক্ষে প্রতি বছর বহু মানুষের সমাবেশ ঘটে। এতে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।সুতরাং, কবিতার পবিত্র স্থান দর্শন বা তীর্থ দর্শন মানসিক শান্তি, পুণ্য, জ্ঞান ও সামাজিক ঐক্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও