হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সমর বাবু একজন সজ্জন ব্যক্তি। ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ প্রবল। এ সম্পর্কিত জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। তিনি আজ বেদের এমন একটি অংশ অধ্যয়ন করেন যার মধ্যে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক দিকনির্দেশনা রয়েছে। তিনি ঋষি মনুর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, 'বেদঃ অখিল ধর্মমূলম্'।
- ক)(1)
ধর্মের বিশেষ লক্ষণ কয়টি?
- খ)(2)
বেদকে অপৌরুষেয় বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সমর বাবু আজ বেদের কোন অংশটি অধ্যয়ন করেছেন? উক্ত অংশের বিষয়বস্তু উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"বেদ এক অখণ্ড জ্ঞান রাশি"-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ধর্মের বিশেষ লক্ষণ চারটি: বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী।
- খ)
'অপৌরুষেয়' অর্থ যা কোনো পুরুষ বা মানুষের রচনা নয়। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুসারে বেদ কোনো মানুষের রচিত গ্রন্থ নয়।
বেদের মন্ত্রগুলো ঋষিরা গভীর ধ্যানে উপলব্ধি করেছেন এবং গুরু-শিষ্য পরম্পরায় তা মুখে মুখে চলে এসেছে। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই এই জ্ঞান বিদ্যমান ছিল বলে ঋষিরা এর রচয়িতা নন, উপলব্ধিকারী মাত্র।
তাই বেদকে অপৌরুষেয় বলা হয়। - গ)
সমর বাবু আজ বেদের অথর্ববেদ অংশটি অধ্যয়ন করেছেন, যার মধ্যে আয়ুর্বেদ, অর্থাৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক দিকনির্দেশনা আছে।
বেদের পরিচয়: বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। এটি চারটি: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। বেদের চারটি ভাগ আছে: সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। বেদ ধর্মের মূল। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, 'বেদঃ অখিলধর্মমূলম্'।
অথর্ববেদ ও আয়ুর্বেদ: পাঠ্যপুস্তক অনুসারে, আয়ুর্বেদ অথর্ববেদের অন্তর্গত। মানুষের রোগব্যাধি দূর করার জ্ঞান এতে আছে। প্রাচীন চিকিৎসক চরক এই আয়ুর্বেদের জ্ঞান নিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র রচনা করেন এবং তাঁকে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: সমর বাবু বেদের এমন অংশ পড়েছেন, যেখানে বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক দিকনির্দেশনা আছে। এটি আয়ুর্বেদের বৈশিষ্ট্য। আবার তিনি মনুর উদ্ধৃতিতে বেদকে ধর্মের মূল বলেছেন। এতে বোঝা যায়, বেদে ধর্মের পাশাপাশি জাগতিক জ্ঞানও আছে।
সুতরাং, সমর বাবুর অধ্যয়ন করা অংশটি অথর্ববেদ। - ঘ)
'বেদ এক অখণ্ড জ্ঞানরাশি', পাঠ্যপুস্তকের এই উক্তি যথার্থ। বেদ কোনো একটি বিষয়ের গ্রন্থ নয়, এটি মানবজীবনের সব দিকের জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার।
বেদের পরিচয়: বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। এর সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ, এই চারটি ভাগ। সংহিতা ও ব্রাহ্মণ নিয়ে কর্মকাণ্ড এবং আরণ্যক ও উপনিষদ নিয়ে জ্ঞানকাণ্ড।
১. চতুর্বর্গের সন্ধান: বেদ দ্বারা মানবজাতি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ, এই চতুর্বর্গের সন্ধান লাভ করতে পারে। এভাবে মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের পথনির্দেশ বেদ থেকে পাওয়া যায়।
২. সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উৎস: বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানতে বেদই একমাত্র নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। ভারতবর্ষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম-কর্ম ও আচার-নিষ্ঠা সবই বেদের মধ্য দিয়ে প্রতিভাত হয়েছে।
৩. ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ে প্রমাণ: কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম, তা নির্ণয়ের প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। বেদ ধর্মের মূল।
৪. বিজ্ঞান ও চিকিৎসায় অবদান: আয়ুর্বেদ অথর্ববেদের অন্তর্গত। সমর বাবুর উদ্দীপকে এর প্রমাণ মেলে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বেদে চিকিৎসাজ্ঞানও আছে।
এখানে কর্মকাণ্ডে যাগযজ্ঞ ও আচার-নিয়মের নির্দেশনা আছে, আবার জ্ঞানকাণ্ডে ব্রহ্ম ও সৃষ্টিরহস্যের আলোচনা আছে।
সুতরাং, কর্ম, জ্ঞান, ধর্ম, ইতিহাস ও চিকিৎসা সব বিষয়ের সমন্বয় থাকায় বেদকে যথার্থই অখণ্ড জ্ঞানরাশি বলা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও