বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ওরা তিনজন জনস্রোতে মিশে যায়। রবিনের মনে হয় ওরা আর বালক নেই। ওর বাবা তো জানেন না যে রবিন স্কুলের ছেলেদের সঙ্গে মিছিলে চলে এসেছে। আজ বাবাকে গিয়ে ও বলবে, মিছিলে এসে ও বড়ো হয়ে গেছে। এবং বড়োদের সঙ্গে সমান তালে হাঁটতে পেরেছে। রবিনের মনে হয় ওর চারিদিক খোলা। হঠাৎ মিলিটারিরা কাঁদানে গ্যাস ছাড়ে। ওর চোখ জ্বালা করে। এই যন্ত্রণায় সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
- ক)(1)
বুধাকে স্বাধীন মানুষ হওয়ার স্বপ্ন কে দিয়েছে?
- খ)(2)
'ও মৃত্যুপুরীর স্তব্ধ শীতলতায় নিঃসাড় বসেছিল'- কেন বসেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রবিনের মিছিলে অংশগ্রহণের সাথে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধা চরিত্রের কোন দিকটির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মূল চেতনাকে ধারণ করে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শাহবুদ্দীন বুধাকে স্বাধীন মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
- খ)
গণহত্যার পর গ্রামটি লাশ ও নীরবতায় মৃত্যুপুরীর মতো হয়ে উঠেছিল। চারদিকে মৃত্যু ও ধ্বংসের স্তব্ধতা দেখে বুধা শোক ও আতঙ্কে অবসন্ন হয়ে পড়েছিল। তাই সে মৃত্যুপুরীর স্তব্ধ শীতলতায় নিঃসাড় বসেছিল।
- গ)
উদ্দীপকের রবিন স্কুলের ছেলেদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়ে নিজেকে বড় মনে করে এবং কাঁদানে গ্যাসের যন্ত্রণায় আরও ক্ষিপ্ত হয়। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের বুধাও অত্যাচার ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনতার চেতনা অর্জন করে।
সুতরাং মিলের দিকটি হলো অত্যাচারের মুখে প্রতিবাদী চেতনার বিকাশ ও সাহসী অংশগ্রহণ। - ঘ)
উদ্দীপকের রবিন মিছিলে অংশ নিয়ে সাহস ও প্রতিবাদী মনোভাব প্রকাশ করে। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের মূল চেতনা হলো মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সাধারণ মানুষের জেগে ওঠা এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ।
১. রবিনের মতো বুধাও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সাহসী হয়ে ওঠে।
২. দুজনেই নির্যাতনের মুখে ভয় না পেয়ে ক্ষিপ্ত ও আপসহীন হয়।
৩. তবে উপন্যাসের পরিসর আরও বিস্তৃত; গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও আত্মত্যাগ সেখানে প্রধান, উদ্দীপক মূলত মিছিলের অংশগ্রহণে সীমিত।
সুতরাং, উদ্দীপকটি উপন্যাসের মূল চেতনাকে আংশিকভাবে ধারণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও