ভূগোল এবং পরিবেশ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ফারিয়া সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় লক্ষ করল, সমুদ্রের শান্ত পানি ধীরে ধীরে ফুলে উঠে তীরে প্রবলবেগে আছড়ে পড়ছে। সে শিক্ষকের কাছ থেকে জেনেছে সমুদ্রের পানিতে এরূপ ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে।দৃশ্যকল্প-২: ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সমুদ্র তলদেশে সংঘটিত একটি দুর্যোগের প্রভাব বাংলাদেশে উপকূলের জলরাশিতে দেখা গিয়েছিল।দৃশ্যকল্প-৩: ২১ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হঠাৎ কেঁপে ওঠে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
- ক)(1)
উপসাগর কাকে বলে?
- খ)(2)
সেবল ব্যাংক মগ্নচড়া কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ফারিয়ার দেখা জলরাশিতে এরূপ কেন ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ ঘটা দুর্যোগ দুটির কোনটিতে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে হ্রাস করা সম্ভব বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জলভাগযুক্ত জলরাশিকে উপসাগর বলে। যেমন— বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর।
- খ)
উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে গলে যায়। হিমশৈলে থাকা নুড়ি, কাঁকর ও বালি সমুদ্রতলে সঞ্চিত হয়ে ধীরে ধীরে অগভীর মগ্নচড়া সৃষ্টি করে। সেবল ব্যাংক নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূলের এরূপ একটি মগ্নচড়া, যা এভাবেই গঠিত হয়েছে।
- গ)
ফারিয়ার দেখা ঘটনাটি জোয়ার। সমুদ্রের জলরাশির এরূপ নিয়মিত ফুলে ওঠা ও নেমে যাওয়া দুটি কারণে ঘটে—
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি: পৃথিবীর ওপর সূর্যের চেয়ে চাঁদের আকর্ষণ বেশি, কারণ চাঁদ পৃথিবীর অনেক নিকটে। তাই প্রধানত চাঁদের আকর্ষণে সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে। পূর্ণিমায় চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকে বলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার প্রবল হয়।
২. কেন্দ্রাতিগ শক্তি: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তিতে মহাকর্ষের প্রভাবিত স্থানের বিপরীত দিকেও জল ছিটকে গিয়ে জোয়ার সৃষ্টি করে। - ঘ)
দৃশ্যকল্প-২ এ ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সুনামির কথা বলা হয়েছে, আর দৃশ্যকল্প-৩ এ ভূমিকম্পের কথা। আমার মতে, এ দুটির মধ্যে সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হ্রাস করা সম্ভব।
১. ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নেই: ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো কলাকৌশল আজও আবিষ্কৃত হয়নি। এটি আকস্মিকভাবে ঘটে, তাই আগে থেকে সতর্ক করা যায় না। মানুষ কেবল ভবনের কোড মানা, সচেতনতা ও উদ্ধার প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষতি কমাতে পারে।
২. সুনামির ক্ষেত্রে সুযোগ: সুনামি সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পের পর সৃষ্টি হয়। উৎসস্থল থেকে দূরের উপকূলে আঘাত করতে সময় লাগে। ২০০৪ সালে সুমাত্রায় ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশে পৌঁছাতে সময় নিয়েছিল। এ সময়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্পারসোর মতো সংস্থার তথ্যে সতর্কীকরণ ও নিরাপদ স্থানে সরানো সম্ভব।
৩. প্রস্তুতি: উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র, ড্রিল ও সচেতনতা বাড়ালে সুনামির ক্ষতি আরও কমে।সুতরাং, সতর্কীকরণ ও অপসারণের সুযোগ থাকায় ভূমিকম্পের তুলনায় সুনামির ক্ষয়ক্ষতি বেশি কমানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও