গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
তন্ময়ের বাবা-মা দু'জনই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তারা নিজেদের নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকেন। তাদের মধ্যে সব সময় ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। তন্ময় ঠিকমত পড়াশোনা করে না। বখাটে ছেলেদের সাথে মেশে। এক রাতে সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে। এ অবস্থায় বাবা-মা তন্ময়কে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বলেন, "একমাত্র আপনারাই পারেন তন্ময়ের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে।"
- ক)(1)
বিকাশ কী?
- খ)(2)
কিশোর অপরাধ বলতে কী বোঝো?
- গ)(3)
তন্ময়ের মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তন্ময়ের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শটির যথার্থতা কতটুকু? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বিকাশ হলো গর্ভধারণের সময় থেকে শুরু করে জীবনব্যাপী ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় দিকের ধারাবাহিক ও গুণগত পরিবর্তন, যার ফলে তার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- খ)
১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোর বা শিশু যখন আইন, সমাজের নিয়ম ও নৈতিকতা বিরোধী কোনো কাজ করে, তখন তাকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। চুরি, মারামারি, মাদক সেবন ও ধূমপান, মিথ্যা বলা, স্কুল পালানো ইত্যাদি এর উদাহরণ।
পারিবারিক অবহেলা, অসৎ সঙ্গ ও মানসিক চাপ এর প্রধান কারণ। সঠিক যত্ন ও পরামর্শ দিয়ে এ ধরনের কিশোরকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।
- গ)
তন্ময়ের মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পারিবারিক অশান্তি: বাবা-মা সব সময় ঝগড়া-বিবাদে ব্যস্ত থাকায় তন্ময় ঘরে শান্তি পায় না। মানসিক অশান্তি থেকে সে মুক্তি খোঁজে।
২. বাবা-মায়ের অবহেলা: বাবা-মা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তন্ময়কে সময় ও ভালোবাসা দেন না। সে স্নেহ ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হয়।
৩. অসৎ সঙ্গ: সে বখাটে ছেলেদের সাথে মেশে, যাদের প্রভাবে সে নেশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
৪. পড়াশোনায় অমনোযোগ: পড়াশোনায় ভালো করতে না পারায় তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়, যা তাকে নেশার দিকে ঠেলে দেয়।এসব কারণেই তন্ময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।
- ঘ)
ডাক্তারের পরামর্শ, "একমাত্র আপনারাই পারেন তন্ময়ের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে" সম্পূর্ণ যথার্থ বলে আমি মনে করি।
১. পরিবার শিশুর প্রথম শিক্ষালয়: বাবা-মার আচরণ ও পারিবারিক পরিবেশ থেকেই সন্তান আচরণ শেখে। তন্ময়ের বাবা-মার ঝগড়া ও অবহেলাই তার বিপথগামী হওয়ার মূল কারণ, তাই সমাধানও পরিবার থেকেই আসতে হবে।
২. স্নেহ ও সময় প্রদান: বাবা-মা নিজেদের ব্যস্ততা কমিয়ে তন্ময়কে সময় দিলে, তার সাথে বন্ধুর মতো মিশলে সে মানসিক নিরাপত্তা পাবে।
৩. পারিবারিক কলহ বন্ধ করা: বাবা-মা বিবাদ বন্ধ করে সুস্থ ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করলে তন্ময় বাড়িতে স্বস্তি পাবে।
৪. নজরদারি ও সহায়তা: তন্ময়ের বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ রাখা, বখাটেদের সঙ্গ থেকে দূরে রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সহায়তা নেওয়া তাদেরই দায়িত্ব।সুতরাং, বাবা-মা নিজেদের আচরণ ও দায়িত্ব বদলালেই তন্ময় সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও