গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • নারায়নগঞ্জ কলেজ • নারায়নগঞ্জ কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
কণা, মিশু, সুপ্তি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। তিন বছর পূর্বে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কণার পা কাটা যায়। মিশু কোনো শব্দ শুনতে পায় না। সুপ্তির বুদ্ধ্যঙ্ক ৪০-এর নিচে। তারা তিনজনেই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী।
- ক)(1)
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কাকে বলে?
- খ)(2)
শিশুর অটিজম কীভাবে শনাক্ত করা যায়?
- গ)(3)
কণার প্রতিবন্ধিতার ধরন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মিশু ও সুপ্তির জন্য ভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক কিংবা ইন্দ্রিয়গত বৈশিষ্ট্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ব্যতিক্রম এবং যাদের বিকাশ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ যত্ন, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়, তাদেরকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিশুর সামাজিক বিকাশ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং আচরণের ধরন পর্যবেক্ষণ করে অটিজম শনাক্ত করা যায়। অটিজমে আক্রান্ত শিশু সাধারণত চোখের দিকে তাকায় না (eye contact করে না), নিজের নামে ডাকলে সাড়া দেয় না, সমবয়সীদের সাথে মিশতে পারে না, নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গভঙ্গি বা কথার পুনরাবৃত্তি করে এবং পরিবেশের পরিবর্তনে তীব্র অস্বস্তি প্রকাশ করে। সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে এসব বিকাশজনিত লক্ষণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা পর্যবেক্ষণ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে অটিজম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কণার প্রতিবন্ধিতার ধরন হলো ‘শারীরিক প্রতিবন্ধিতা’ (শারীরিক অঙ্গহানি)।
যেসব শিশুর শারীরিক গঠন, হাত-পা বা শরীরের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্বল বা অবশ হওয়ার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধী বলা হয়। দুর্ঘটনা, রোগব্যাধি কিংবা জন্মগত ত্রুটির কারণে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তিন বছর পূর্বে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কণার পা কাটা যায়। এর ফলে তার চলনক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং সে শারীরিকভাবে বিশেষ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাই কণা শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মিশু ও সুপ্তির প্রতিবন্ধিতার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন—উক্তিটি যথার্থ।
প্রতিবন্ধী শিশুদের চাহিদা তাদের শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতার ওপর নির্ভর করে। মিশু কোনো শব্দ শুনতে পায় না, অর্থাৎ সে শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী। অন্যদিকে, সুপ্তির বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ৪০-এর নিচে, যা তাকে মাঝারি থেকে গুরুতর মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করে।
মিশুর শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা থাকায় তার প্রধান শিক্ষণ মাধ্যম হলো দৃষ্টিশক্তি। তার শিক্ষার জন্য প্রয়োজন ইশারা ভাষা (Sign language), লিপ রিডিং বা ওষ্ঠপঠন এবং বিভিন্ন দৃশ্যমান সহায়ক উপকরণ। শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের বিশেষ বিদ্যালয়ে সে স্বাভাবিক পাঠ্যক্রম সাধারণ মেধার শিশুদের মতোই আয়ত্ত করতে পারে, যদি উপযুক্ত সাংকেতিক ভাষা ও আধুনিক শ্রবণযন্ত্রের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়।
অপরদিকে, সুপ্তির বুদ্ধ্যঙ্ক ৪০-এর নিচে হওয়ায় তার বৌদ্ধিক বিকাশ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। সে সাধারণ পাঠ্যক্রম সহজে ধারণ করতে পারে না। তার শিক্ষার মূল লক্ষ্য প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন—যেমন নিজের কাজ নিজে করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কিছু প্রাথমিক সামাজিক ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন। এ জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (যেমন সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত বিদ্যালয়)।
সুতরাং, মিশুর মতো শ্রবণপ্রতিবন্ধীর শিক্ষা এবং সুপ্তির মতো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর জীবনমুখী বিশেষ প্রশিক্ষণ এক হতে পারে না। তাদের চাহিদা ও সক্ষমতার ভিন্নতার কারণেই উভয়ের জন্য আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা একান্ত আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও