‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বিহিত মুদ্রা কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    মুদ্রাস্ফীতির ফলে ক্রেতা ও ভোগকারী কীভাবে প্রভাবিত হয়?

    (2)
  3. গ)

    A'-ব্যাংকটি কোন ধরনের ব্যাংক? উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যাবলি ছাড়া উক্ত ব্যাংকের আরও তিনটি কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    'B'-ব্যাংকটি চিহ্নিত করে উক্ত ব্যাংকটির ঋণ নিয়ন্ত্রণের তিনটি হাতিয়ার বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিহিত মুদ্রা ২ (দুই) প্রকার। যথা: ১. সসীম বিহিত মুদ্রা এবং ২. অসীম বিহিত মুদ্রা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে দ্রব্যসামগ্রী ও সেবার দামের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্রেতা ও নির্দিষ্ট আয়ের ভোগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পায়। ফলে পূর্বে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা ক্রয় করা যেত, মুদ্রাস্ফীতির কারণে একই অর্থ দিয়ে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব্য পাওয়া যায়। ক্রেতা ও ভোগকারীদের আর্থিক আয় যদি দামস্তরের সাথে তাল মিলিয়ে না বাড়ে, তবে তাদের প্রকৃত আয় ও ভোগ ব্যয় কমে যায়, জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায় এবং তারা চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ব্যাংকটি হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

    বাণিজ্যিক ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন খাতে ঋণ দিয়ে থাকে। উদ্দীপকে আমানত গ্রহণ, ঋণদান ও মূলধন গঠনের কার্যাবলি এই ব্যাংকটির বাণিজ্যিক চরিত্র নিশ্চিত করে।

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যাবলি ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি: বাণিজ্যিক ব্যাংক চেক, পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট, ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের মতো বিভিন্ন বিনিময় মাধ্যম সৃষ্টি করে লেনদেনকে সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করে।

    ২. অর্থ স্থানান্তর: বাণিজ্যিক ব্যাংক আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা দেশে-বিদেশে অর্থ নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে স্থানান্তর করে গ্রাহকদের সেবা দেয়।

    ৩. বৈদেশিক বাণিজ্য সহায়তা: বাণিজ্যিক ব্যাংক আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতার পক্ষে প্রত্যয়নপত্র (Letter of Credit বা L/C) ইস্যু করে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনায় মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' ব্যাংকটি হলো দেশের 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক' (Central Bank)। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, যা নোট প্রচলন করে, সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা ও ব্যাংকার হিসেবে কাজ করে এবং সামগ্রিক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার তিনটি প্রধান হাতিয়ার নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ব্যাংক হার নীতি (Bank Rate Policy):
    কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয় বা প্রথম শ্রেণির বিল বাট্টাকরণ করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। বাজারে ঋণের পরিমাণ অতিরিক্ত বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, যার কারণে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হয় এবং বাজারে ঋণ সংকুচিত হয়। বিপরীতভাবে, মন্দাকালে ব্যাংক হার কমিয়ে ঋণ বাড়ানো হয়।

    ২. খোলা বাজার নীতি (Open Market Operation):
    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ, ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারে ঋণের প্রবাহ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সাধারণ জনগণের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বিক্রি করে, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নগদ তহবিল কমে যায় এবং তারা বেশি ঋণ দিতে পারে না। ঋণের পরিমাণ বাড়াতে ব্যাংক এসব সিকিউরিটি পুনরায় ক্রয় করে।

    ৩. জমার হার পরিবর্তন নীতি (Reserve Ratio Requirement):
    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট তলবি ও মেয়াদি আমানতের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আইনগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলক নগদ জমা (Cash Reserve Ratio বা CRR) রাখতে হয়। দেশের সার্বিক ঋণ সংকুচিত করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জমার অনুপাত বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। অন্যদিকে, ঋণের বিস্তার ঘটাতে জমার হার কমানো হয়।

    সুতরাং, উপযুক্ত হাতিয়ারগুলোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে ঋণের প্রবাহ স্থিতিশীল রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন