ব্যবসায় উদ্যোগ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জয় ও জনি তাদের প্রবাসী বন্ধু রনিকে নিয়ে চট্টগ্রামে 'লিজা ফ্যাশন' নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তারা প্রয়োজনীয় চুক্তিও সম্পাদন করেন। কয়েক বছর সফলতার সাথে ব্যবসায় করলেও জনির মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে কারখানাটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

  1. ক)

    একমালিকানা ব্যবসায় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত হলেও নিজস্ব নামে পরিচালিত হতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রনি কোন ধরনের অংশীদার? এ ধরনের অংশীদারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জয় ও রনির ইচ্ছা থাকলে কি 'লিজা ফ্যাশন' চালু রাখা সম্ভব? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে ব্যবসায় একজন ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় এবং যার সকল লাভ-লোকসান মালিক একাই ভোগ বা বহন করেন, তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।

  2. খ)

    অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধিত হলেও এর কোনো আলাদা আইনগত সত্তা সৃষ্টি হয় না। ফলে ব্যবসায় নিজস্ব নামে পরিচালিত হতে পারে না। ব্যবসায়ের সব লেনদেন অংশীদারদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে হয়েছে বলে ধরা হয়। আইনের চোখে ব্যবসায় ও অংশীদাররা অভিন্ন, তাই এই ব্যবসায় নিজের নামে মামলা করতে বা দায় নিতে পারে না। এ কারণে নিবন্ধিত হলেও অংশীদারি ব্যবসায় নিজস্ব নামে পরিচালিত হতে পারে না।

  3. গ)

    উদ্দীপকের রনি ঘুমন্ত অংশীদার।

    যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পান, কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেন না, তাঁকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে। উদ্দীপকে রনি প্রবাসী হওয়ায় চট্টগ্রামে সক্রিয়ভাবে কারখানা পরিচালনায় থাকার কথা নয়, কিন্তু তিনি অংশীদার হিসেবে ব্যবসায়ে যুক্ত। ঘুমন্ত অংশীদারের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

    ১. ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন।

    ২. চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পান।

    ৩. সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেন না।

    ৪. তাঁর দায় অসীম।

    ৫. ব্যবসায়ের কোনো কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে দায়বদ্ধ নন।

  4. ঘ)

    জয় ও রনির ইচ্ছা থাকলে ‘লিজা ফ্যাশন’ চালু রাখা সম্ভব।

    ১. অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে আদালত ব্যবসায় বিলোপের নির্দেশ দিতে পারে। অর্থাৎ জনির অবস্থার কারণে বিদ্যমান অংশীদারি সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।

    ২. অংশীদারি ব্যবসায় চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। জনি যেহেতু কার্যক্ষম নন, তাই জয় ও রনি পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁর প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিয়ে অথবা তাঁর ব্যবস্থা করে নতুন চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারি সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারেন।

    ৩. অংশীদারি ব্যবসায় গঠনের জন্য কমপক্ষে দুজন যোগ্য ব্যক্তি লাগে। জয় ও রনি দুজন আছেন, তাই তাঁরা নতুন চুক্তিপত্র করে অংশীদারি ব্যবসায় চালিয়ে যেতে পারেন।

    ৪. কারখানা সফলভাবে চলছিল, যা ভবিষ্যতেও ব্যবসায়ের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

    সুতরাং, নতুন চুক্তি ও জনির দায়-দায়িত্ব নিষ্পত্তির মাধ্যমে জয় ও রনি ইচ্ছা করলে ‘লিজা ফ্যাশন’ চালু রাখতে পারেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন