পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
মুন্নি বেগম বিশেষ প্রয়োজনে কাবিননামার কপি আনার জন্য কাজি অফিসে যান। কাজি সাহেব তাকে সহযোগিতা না করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে তথ্য না পাওয়ায় তিনি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেন। অবশেষে তিনি তথ্য পেতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
অধিকার কাকে বলে?
- খ)(2)
নৈতিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
মুন্নি বেগম কোন আইনের সহায়তায় তার তথ্য পেলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুশাসনের ক্ষেত্রে মুন্নি বেগমের সফলতা আশাব্যঞ্জক মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র স্বীকৃত সেই সুযোগ-সুবিধা, যা ছাড়া মানুষ তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে পারে না।
- খ)
নৈতিক অধিকার হলো সেই অধিকার, যা মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও সামাজিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। যেমন, গুরুজনকে সম্মান করা, অসহায়কে সাহায্য করা। রাষ্ট্র এই অধিকার আইনের মাধ্যমে কার্যকর করতে পারে না, আদালতেও এর বিচার হয় না। সমাজের নিন্দা বা বিবেকের দংশনই এর লঙ্ঘনের শাস্তি।
- গ)
মুন্নি বেগম তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর সহায়তায় তাঁর তথ্য পেয়েছেন।
ব্যাখ্যা: এই আইনে নাগরিক সরকারি ও সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়ার অধিকার পায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যায়। উদ্দীপকে মুন্নি বেগম কাজি অফিস থেকে নির্দিষ্ট দিনে তথ্য না পেয়ে আপিল করেছেন এবং শেষে তথ্য পেয়েছেন। তাই এটি তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ।
- ঘ)
মুন্নি বেগমের সফলতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক, কারণ এটি সুশাসনের একাধিক বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে।
মূল্যায়ন:
১. স্বচ্ছতা: তথ্য জানার অধিকারের ফলে প্রশাসনের কাজ জনগণের কাছে স্পষ্ট হয় এবং গোপনীয়তা কমে।
২. জবাবদিহিতা: হয়রানি করলে কর্মকর্তাকে আপিলের মাধ্যমে জবাবদিহি করতে হয়, ফলে দায়িত্বশীলতা বাড়ে।
৩. নাগরিক সচেতনতা: মুন্নি বেগমের মতো নাগরিকরা অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে আইনি পথে প্রতিকার পেলে অন্যরাও উৎসাহিত হয়।সুতরাং, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে, তাই মুন্নি বেগমের সফলতা আশাব্যঞ্জক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও